স্ত্রীকে বেঁধে নির্যাতন, শরীরের ক্ষতস্থানে মরিচের গুঁড়া দেওয়ার অভিযোগ; তালা হাসপাতালে গৃহবধূ ভর্তি
জহর হাসান সাগর
খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার আরশনগর গ্রামের মোড়লপাড়ায় স্বামীর বিরুদ্ধে স্ত্রীকে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। নির্যাতনের শিকার গৃহবধূ লিমা (১৯) গুরুতর আহত অবস্থায় বর্তমানে সাতক্ষীরার তালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স-এ চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, আরশনগর গ্রামের মোড়লপাড়ার বাসিন্দা ওজিয়ার মোড়লের ছেলে খাইরুল ইসলামের সঙ্গে লিমার বিয়ে হয়। পারিবারিক বিরোধের জেরে স্বামী খাইরুল ইসলাম তার স্ত্রীকে অমানবিকভাবে নির্যাতন করেন বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী ও তার পরিবারের সদস্যরা।
তাদের দাবি, ঘটনার দিন লিমার হাত-পা বেঁধে মুখে গামছা ঢুকিয়ে দেওয়া হয়। এরপর তাকে বেধড়ক মারধর করা হয় এবং বেত দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করা হয়। একপর্যায়ে শরীরের বিভিন্ন কাটা ও ক্ষতস্থানে মরিচের গুঁড়া লাগিয়ে আরও নির্মম নির্যাতন চালানো হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে তিনি গুরুতর আহত হন।
পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে তালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এ বিষয়ে লিমার শাশুড়ি মাফুজা বেগম বলেন,
“আমার ছেলে ঘরের দরজা বন্ধ করে তার স্ত্রীকে মারধর করেছে। দরজা বন্ধ থাকায় আমরা ভেতরে যেতে পারিনি এবং তাকে রক্ষা করারও সুযোগ পাইনি।”
ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। স্থানীয়রা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত খাইরুল ইসলামের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ ব্যাপারে ডুমুরিয়া থানা-র অফিসার ইনচার্জ (ওসি) খন্দকার হাফিজুর রহমান বলেন, “এ বিষয়ে এখনো থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
স্থানীয় সচেতন মহল নারী নির্যাতনের এ ঘটনায় দোষীদের দ্রুত বিচারের আওতায় এনে ভুক্তভোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
