চুকনগরে আপার ভদ্রা নদীতে ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ অনুষ্ঠিত
ডুমুরিয়া (খুলনা) প্রতিনিধি:
গ্রামবাংলার হারিয়ে যেতে বসা ঐতিহ্যকে পুনরুজ্জীবিত করতে এবং নতুন প্রজন্মের সঙ্গে পরিচয়ের লক্ষ্যে খুলনার ডুমুরিয়ার চুকনগরে আপার ভদ্রা নদীতে অনুষ্ঠিত হয়েছে এক বর্ণিল ও ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) বিকেলে চুকনগর বাজার হ্যান্ডেলিং শ্রমিক ইউনিয়নের উদ্যোগে আয়োজিত এ প্রতিযোগিতাকে কেন্দ্র করে নদীর দুই পাড়ে মানুষের ঢল নামে, যা রূপ নেয় এক গ্রামীণ উৎসবে।
চুকনগর বাজার হ্যান্ডেলিং শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি ও ইউপি সদস্য মো. আলাউদ্দিন মালীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আটলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শেখ হেলাল উদ্দিন।
সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন চুকনগর বাজার বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সরদার বিল্লাল হোসেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চুকনগর ডিগ্রি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ এবিএম শফিকুল ইসলাম এবং উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ও সাবেক ইউপি সদস্য বিএম হাবিবুর রহমান হবি।
আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চুকনগর বাজারের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী গাজী মিজানুর রহমান।
এছাড়াও আরও উপস্থিত ছিলেন চুকনগর বাজার হ্যান্ডেলিং শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান গাজী, শ্রমিক নেতা খায়রুল ইসলাম শেখ, আজিজুল গাজী, আব্দুস সবুর গাজী, খোকন গাজী ও আরশাদ গাজী প্রমুখ। পুরো অনুষ্ঠানটি অত্যন্ত সাবলীলভাবে সঞ্চালনা করেন মিজানুর রহমান শেখ।
এবারের প্রতিযোগিতায় বিভিন্ন এলাকা থেকে মোট চারটি সুসজ্জিত নৌকা অংশ নেয়। ঢোল-তবলার আওয়াজ ও মাঝিদের সমবেত ভাটিয়ালি গানের সুরে মুখরিত হয়ে ওঠে আপার ভদ্রা নদী। টানটান উত্তেজনার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত এ প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অধিকার করার গৌরব অর্জন করে আয়োজক ‘চুকনগর হ্যান্ডেলিং শ্রমিক ইউনিয়ন’-এর নৌকা। এছাড়া, দক্ষিণ চুকনগরের আব্দুস সবুর গাজীর নৌকা দ্বিতীয় এবং সাতক্ষীরার তালার আবুল হোসেনের নৌকা তৃতীয় স্থান অর্জন করে।
শরতের বিকেলে নৌকাবাইচ দেখতে আপার ভদ্রা নদীর দুই পাড়ে হাজার হাজার নারী, পুরুষ ও শিশু সমবেত হন। দীর্ঘদিন পর এমন জমজমাট আয়োজনে চুকনগর বাজার ও এর আশপাশের এলাকায় এক উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
আয়োজকরা জানান, যান্ত্রিকতার এই যুগে গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচের সংস্কৃতি হারিয়ে যেতে বসেছে। এই ধরনের আয়োজন শুধু আমাদের প্রাচীন ঐতিহ্যকেই ধরে রাখে না, বরং এলাকার সাধারণ মানুষের মধ্যে পারস্পরিক আনন্দ, সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের বন্ধনকেও আরও দৃঢ় করে তোলে।
প্রতিযোগিতা শেষে প্রধান অতিথি ও অন্যান্য অতিথিরা বিজয়ী দলগুলোর হাতে আকর্ষণীয় পুরস্কার তুলে দেন।
শান্তিপূর্ণ ও আনন্দঘন পরিবেশে দিনব্যাপী এই উৎসব সম্পন্ন হওয়ায় আয়োজক ও এলাকাবাসী সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
জাহাঙ্গীর আলম মুকুল
ডুমুরিয়া খুলনা
