তালা প্রতিনিধিঃ
তালার পাটকেলঘাটায় অ্যাডভোকেট কবির আহমেদের চেম্বারে হামলা, ভাঙচুর ও ব্যাপক ক্ষমতার দাপট প্রদর্শনের অভিযোগে দায়ের করা দ্রুত বিচার আইনের মামলায় চার আসামির মধ্যে তিনজনের জামিন নামঞ্জুর করেছেন আদালত। অ্যাডভোকেট কবির আহমেদ সাতক্ষীরা ও ঢাকা বারের সিনিয়র একজন আইনজীবী হিসাবে কর্মরত আছেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, তালা উপজেলার খড়েরডাঙ্গা গ্রামের আইনজীবী অ্যাডভোকেট কবির আহমেদ বাদী হয়ে সাতক্ষীরার আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নকারী অপরাধ দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে মামলাটি দায়ের করেন। মামলার সিআইডির তদন্ত প্রতিবেদনের বিবরণ অনুযায়ী, গত ৩ ফেব্রুয়ারি বিকেল ৪টার দিকে পাটকেলঘাটা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয় সংলগ্ন বাদীর সেরেস্তায় অতর্কিত হামলার ঘটনা ঘটে।
অভিযোগে বলা হয়, চার আসামি অনধিকার প্রবেশ করে বাদীকে হামলা, ভাঙচুর ও ব্যাপক ক্ষমতার দাপট প্রদর্শন করেন। চেম্বারে থাকা আইনের বই, ফাইলপত্র দেয়াল ও মেঝেতে ছুড়ে ফেলে তছনছ করা হয়। পাশাপাশি কোর্ট টাই রাখার স্টিলের আলনাও ভাঙচুর করে ক্ষতিসাধন করা হয়। এ ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নকারী অপরাধ দ্রুত বিচার আইন, ২০০২-এর ৪ ও ৫ ধারায় অপরাধ সংঘটিত হওয়ার বিষয়টি তদন্তে উঠে আসে।
মামলাটি তদন্ত শেষে গত ২০ আগস্ট ২০২৬ তারিখে সিআইডির তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আরিফুল ইসলাম আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। পরে আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে সমন জারি করেন। নির্ধারিত ১৯ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে আসামিরা আদালতে হাজির না হওয়ায় তাঁদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়।
পরবর্তীতে আসামি ইজাজুল ইসলাম (৩২), পিতা ফরিদ আহমেদ, গ্রাম রাজেন্দ্রপুর; মো. হানিফ সরদার (৪৮), পিতা আনোয়ার হোসেন, গ্রাম কুমিরা, থানা পাটকেলঘাটা; আলশাহরিয়ার সুমন (২৫), পিতা আবু তালেব, সাং তালতলা মধ্যপাড়া, সাতক্ষীরা এবং মো. ফরিদ আহমেদ বিশ্বাস (৭৫), পিতা মৃত দবির হোসেন বিশ্বাস, গ্রাম রাজেন্দ্রপুর, থানা পাটকেলঘাটা আদালতে হাজির হয়ে জামিন আবেদন করেন।
আসামিরা আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নকারী অপরাধ দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক তনিমা মণ্ডল তনির আদালতে এ জামিন আবেদনের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। বাদীপক্ষে সাতক্ষীরা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি ও জ্যেষ্ঠ আইনজীবী অ্যাডভোকেট মুহা. আব্দুল মজিদের নেতৃত্বে ২৫ জন আইনজীবী শুনানিতে অংশ নেন। অন্যদিকে আসামিপক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী অ্যাডভোকেট বাসারাত উল্লাহ আওরঙ্গী বাবলাসহ তিনজন আইনজীবী শুনানি করেন। দীর্ঘ শুনানি শেষে আদালত চার নম্বর আসামি ফরিদ আহমেদ বিশ্বাসের (৭৫) জামিন মঞ্জুর করেন। অপর তিন আসামি ইজাজুল ইসলাম, মো. হানিফ সরদার ও আলশাহরিয়ার সুমনের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাঁদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মুহা. আব্দুল মজিদ জানান, আসামিরা অ্যাডভোকেট কবির আহমেদের চেম্বারে প্রবেশ করে তাঁকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন এবং চেম্বারের আসবাবপত্র ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ভাঙচুর করে ক্ষতিসাধন করেন। জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করার এ ঘটনায় আদালতের আদেশে আসামিদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আদালতের এ আদেশে মামলার বাদী সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
