আমাদী বিলে ধান রোপণের সময় বজ্রপাতে দিনমজুরের মৃত্যু
কয়রা (খুলনা) প্রতিনিধি:
সংসারের অভাব ঘোচাতে প্রতিদিনের মতো দিনমজুরের কাজে গিয়েছিলেন হারুন সানা। অন্যের জমিতে ধানের চারা রোপণ করে মজুরি নিয়ে বাড়ি ফেরার কথা ছিল তার। কিন্তু সেই ঘরে ফেরা আর হলো না। বজ্রপাত কেড়ে নিল তার প্রাণ।
শনিবার (২২ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে খুলনার কয়রা উপজেলার আমাদী বিল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়রা জানান, বিকেলে হালকা বৃষ্টির মধ্যে আমাদী বিলের মৃত আজিজ সানার জমিতে সাতজন দিনমজুর ধানের চারা রোপণের কাজ করছিলেন। এ সময় হঠাৎ বজ্রপাত হলে হারুন সানা (প্রায়) ঘটনাস্থলেই গুরুতর আহত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। সঙ্গে থাকা শ্রমিক ও স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। তবে হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তার মৃত্যু হয়।
নিহত হারুন সানা আমাদী গ্রামের বারিক সানার ছেলে। দিনমজুরি করে স্ত্রী-সন্তানসহ পরিবারের জীবিকা নির্বাহ করতেন তিনি। প্রতিদিনের মতো সেদিনও পরিবারের মুখে খাবার তুলে দেওয়ার আশায় কাজ করতে গিয়েছিলেন। কিন্তু মজুরি নিয়ে আর বাড়ি ফেরা হয়নি তার।
কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. সুজিত কুমার বৈদ্য জানান, স্থানীয়রা হারুনকে হাসপাতালে নিয়ে আসেন। তবে হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তার মৃত্যু হয়।
উপকূল ও সুন্দরবন সংরক্ষণ আন্দোলনের সভাপতি তরিকুল ইসলাম বলেন, জীবিকার তাগিদে উপকূলের কৃষক ও দিনমজুরদের প্রতিদিন খোলা মাঠে কাজ করতে হয়। আকাশে মেঘ জমলেও অনেক সময় কাজ বন্ধ রাখার সুযোগ থাকে না। কারণ কাজ বন্ধ হলে তাদের আয়ও বন্ধ হয়ে যায়। ফলে বজ্রপাত কৃষক-শ্রমিকদের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তিনি বলেন, বজ্রপাতপ্রবণ এলাকায় দ্রুত সতর্কবার্তা প্রচার, নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা এবং কৃষিজমি ও বিস্তীর্ণ বিল এলাকায় কৃষক ছাউনি নির্মাণ করা জরুরি। পাশাপাশি বজ্রপাত নিরোধক দণ্ড স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।
বজ্রপাতের সময় খোলা মাঠে অবস্থান না করে দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বজ্রপাতের ঝুঁকি কমাতে রাস্তার পাশে ও খোলা এলাকায় বেশি করে তালগাছ রোপণেও গুরুত্ব দিতে হবে।
হারুনের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে আমাদী গ্রাম ও আশপাশের এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। যে মানুষটি কয়েক ঘণ্টা আগেও পরিবারের জন্য রোজগারের আশায় কাদামাটির জমিতে ধানের চারা রোপণ করছিলেন, সন্ধ্যা নামার আগেই তার নিথর দেহ ফিরল বাড়িতে।
হারুনের মৃত্যু শুধু একটি পরিবারের স্বজন হারানোর বেদনা নয়, বরং জীবিকার তাগিদে প্রতিদিন খোলা মাঠে কাজ করা উপকূলের হাজারো কৃষক ও দিনমজুরের নিরাপত্তার বিষয়টিও নতুন করে সামনে এনেছে।
