নেত্রকোনার হাওরাঞ্চলে একই রাতে তিন গ্রামের পাঁচ কৃষকের বাড়ি থেকে ১২ গরু চুরি

Date:

Share:

নেত্রকোনার হাওরাঞ্চলে একই রাতে তিন গ্রামের পাঁচ কৃষকের বাড়ি থেকে ১২ গরু চুরি

 

চয়ন চৌধুরী, মোহনগঞ্জ থেকেঃ

নেত্রকোণার হাওরাঞ্চলের খালিয়াজুরী ও মোহনগঞ্জ উপজেলায় একই রাতে তিন গ্রামের পাঁচ কৃষকের গোয়ালঘরে থেকে ১২টি গরু চুরির ঘটনা ঘটেছে।

রবিবার দিবাগত গভীর রাতে খালিয়াজুরী উপজেলার চাকুয়া ইউনিয়নের হারারকান্দি ও সুলতানপুর গ্রামে এবং পাশের মোহনগঞ্জ উপজেলার গাগলাজুর ইউনিয়নের মান্দারুয়া গ্রামে এ পৃথক গরু চুরির ঘটনা সংঘটিত করেছে চোরেরা।

এরমধ্যে খালিয়াজুরীর হারারকান্দি গ্রামের কৃষক রেজাউলের গোয়ালঘরের তালা ভেঙে ৩ টি ষাঁড় গরু ও একই গ্রামের কৃষক হায়দার হোসেনের গোয়ালঘর থেকে ২টি গরু এবং পাশের সুলতানপুর গ্রামের কৃষক সিরাজ মিয়ার ৩টি ও একই গ্রামের কৃষক শামছু মিয়ার গোয়ালঘরের তালা ভেঙে ১টি গাভী গরু নিয়ে যায় চোরেরা।

এছাড়াও একই রাতে পাশের মোহনগঞ্জ উপজেলার মান্দারুয়া গ্রামের কৃষক সুরে-আলমের গোয়ালঘরের তালা ভেঙে ২ টি ষাঁড় ও ১ বখনা গরু চোরেরা চুরি করে নিয়ে গেছে।
আর এ ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর থেকেই হাওর এলাকার কৃষকদের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, খালিয়াজুরী উপজেলার হারারকান্দি গ্রামের কৃষক রেজাউল করিমের গোয়ালঘরের তালা ভেঙে তিনটি ষাঁড় গরু নিয়ে যায় চোরেরা। গরুগুলোর আনুমানিক মূল্য আড়াই লাখ টাকা। রেজাউল করিম বলেন, তাঁর বসতঘর ও গোয়ালঘর পাকা। চোরেরা বসতঘরের সামনের ও পেছনের দরজা রশি দিয়ে বেঁধে গোয়ালঘরের তালা ভেঙে গরুগুলো নিয়ে যায়।

একই গ্রামের কৃষক হায়দার হোসেন জানান, রাত আনুমানিক ১টার দিকে তিনি বাড়িতে ফিরে গোয়ালে গরুগুলো দেখতে পান। পরে রাত ২টার দিকে তাঁর ছোট শিশুর মল পরিষ্কার করতে ঘর থেকে বের হয়ে গোয়ালঘরের দরজার বাঁধন কাটা দেখতে পান। পরে গোয়ালে গিয়ে দেখেন, সাতটি গরুর মধ্যে দুটি নেই।

হায়দার হোসেন বলেন, চারটি গরুর রশি কেটে দেওয়ায় সেগুলো গোয়ালঘর থেকে বের হয়ে বাড়িতে ছুটাছুটি করতে থাকায় চোরেরা সেগুলো নিতে পারেনি। তবে রশির বাঁধন না খুলে একটি ষাঁড় ও একটি গাভী নিয়ে যায়। ওই দুটি গরুর আনুমানিক মূল্য এক লাখ টাকা।

এদিকে, একই রাতে সুলতানপুর গ্রামের কৃষক সিরাজ মিয়ার গোয়ালঘর থেকে তিনটি গরু চুরি হয়েছে বলে জানা গেছে। গরুগুলোর আনুমানিক মূল্য দুই লাখ টাকা। একই এলাকার শামসু মিয়ার গোয়ালঘর থেকেও একটি গাভী চুরি হয়েছে, যার আনুমানিক মূল্য ৬৫ হাজার টাকা।

খালিয়াজুরী চাকুয়া ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. ফজলু মিয়া এসব গরু চুরির ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তবে বিষয়টি লেপসিয়া পুলিশ ফাঁড়িতেও জানানো হয়েছে বলেও তিনি জানান।

লেপসিয়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. সিরাজুল ইসলাম খান বলেন, ‘গরুর মালিকেরা ফাঁড়িতে এসেছিলেন জিডি করতে। তাঁদের খালিয়াজুরী থানায় সাধারণ ডায়েরি করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।’

খালিয়াজুরী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নাসির উদ্দিন বলেন, ‘বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানতে পেরে লেপসিয়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ও এসআই ওয়াদুদকে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। হাওর এলাকার মানুষ এমনিতেই এ বছর ক্ষতিগ্রস্ত। এর মধ্যে কৃষকদের গরু চুরির ঘটনা খুবই দুঃখজনক। তবে চুরি যাওয়া কৃষকের গরু উদ্ধারসহ ওই গরু চোর চক্রটিকে ধরতে আমাদের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

মোহনগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হাফিজুল ইসলাম হারুন, উপজেলার হাওর এলাকার মান্দারুয়া গ্রামে গরু চুরির ঘটনায় থানা জিডি করা হয়েছে। তদন্ত করে চুরি যাওয়া ৩টি গরু উদ্ধারসহ ওই গরু চোর চক্রকে ধরার জোর চেষ্টা চালানো হবে।

১৭ আগস্ট ২০২৬
নেত্রকোনার হাওরাঞ্চলে একই রাতে তিন গ্রামের পাঁচ কৃষকের বাড়ি থেকে ১২ গরু চুরি