পাটকেলঘাটা ভূমি অফিসে ঘুষ বাণিজ্য: নায়েব তারক চন্দ্রের বিরুদ্ধে দালাল নির্ভর দুর্নীতির পাহাড়।
গোলাম রব্বানী,
সাতক্ষীরা প্রতিনিধি:-
সাতক্ষীরার তালা উপজেলার পাটকেলঘাটা ইউনিয়ন ভূমি অফিসের সহকারী ভূমি কর্মকর্তা (নায়েব) তারক চন্দ্র মন্ডলের বিরুদ্ধে ব্যাপক ঘুষ, দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘদিন একই কর্মস্থলে বহাল থেকে তিনি একটি শক্তিশালী দালাল চক্রের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এই চক্রের সংগৃহীত ঘুষের টাকা প্রতিদিন সন্ধ্যার পর সাতক্ষীরা শহরে তার নিজ ভাড়া বাসায় পৌঁছে দেওয়া হয়।
নামপত্তন ও সেবাগ্রহীতাদের হয়রানি-
অনুসন্ধানে জানা যায়, দীর্ঘদিন একই চেয়ারে দায়িত্ব পালন করায় নায়েব তারক চন্দ্র মন্ডলের অনিয়মের কোনো মাত্রা নেই।
নামপত্তন (মিউটেশন) কেসে সমস্ত কাগজপত্র ঠিক থাকার পরও তাঁকে ১ থেকে ২ হাজার টাকা না দিলে তিনি ফাইলে স্বাক্ষর করেন না।
আর কাগজে সামান্য ভুলত্রুটি থাকলে তাঁর চাহিদা মতো টাকা না পেলে মিউটেশন কেস সরাসরি খারিজ করে দেওয়া হয়।
বড় কাশিপুর গ্রামের রফিকুল শেখ অভিযোগ করে বলেন, “ওয়ারিশ সূত্রে কোনো জমির নামপত্তন করতে গেলে নায়েবকে ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা দিতে হয়, অন্যথায় তিনি ফাইলে স্বাক্ষর করেন না।”
খাজনা আদায়ে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের চিত্র-
সরকারের নির্ধারিত ফির বাইরে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের বহু প্রমাণ তুলে ধরেছেন ভুক্তভোগীরা:
সরুলিয়া ইউনিয়নের শেখ রুবেল ইসলাম বলেন তাঁর বাবাকে কিছু জমির খাজনা দেওয়ার জন্য নায়েবের কাছে গেলে তিনি ২০ হাজার টাকা খরচের হিসাব দেন। বাবা অপারগতা প্রকাশ করলে অফিসের ছোট নায়েবের মাধ্যমে মাত্র ৩,৫০০ টাকায় ওই খাজনা পরিশোধ করা হয়।
কুমিরা ইউনিয়নের নাজমুল তার নিজ জমির খাজনা দেওয়ার জন্য একজনের মাধ্যমে কাগজপত্র পাঠালে নায়েব ৯ হাজার টাকা দাবি করেন।
পরবর্তীতে তিনি নিজেই অফিসে গেলে ছোট নায়েবের মাধ্যমে মাত্র ৮৩৫ টাকায় তাঁর খাজনা পরিশোধ করা হয়।
নাজমুলসহ এলাকাবাসী প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
নায়েব তারকের এই লাগামহীন ঘুষ বাণিজ্যের কালো থাবা থেকে মুক্তি পেতে এবং স্বাভাবিক সেবা নিশ্চিত করতে স্থানীয় সেবাগ্রহীতারা চরম উৎকণ্ঠায় রয়েছেন।
সেবা গ্রহীতা ও এলাকাবাসী অবিলম্বে তালা উপজেলা প্রশাসন এবং সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক (ডিসি) মহোদয়ের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
পাটকেলঘাটা ইউনিয়ন ভূমি অফিসের নায়েব তারক চন্দ্র মন্ডলের কাছে জানতে চাইলে তিনি সংবাদকর্মীকে জানান, “আমাদেরও তো ওপরের দপ্তর ম্যানেজ করতে হয়।” তবে আমার বিরুদ্ধে আনিত সব অভিযোগ সত্য নয় বলে দাবি করেন তিনি।
