ফেসবুকে প্রেম, সেই চীনা যুবকের সাথে মোহনগঞ্জের তরুণীর বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন
চয়ন চৌধুরী, মোহনগঞ্জ থেকেঃ
ফেসবুকে প্রেমের সূত্র ধরে সেই চীনা যুবক ওয়্যাং সুলিনের (৩০) সাথে নেত্রকোনার মোহনগঞ্জের তরুণী নাজমিন আক্তার লিজার (২০) বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়েছে।
আজ শুক্রবার দুপুরে মোহনগঞ্জ পৌর শহরের দৌলতপুর এলাকায় কনের বাড়িতে তাদের বিবাহউত্তোর আনুষ্ঠানিকতার কাজ সম্পন্ন করা হয়।
এতে কনের পরিবার ও আত্মীয়-স্বজন ছাড়াও স্থানীয় শত-শত লোক উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে ওই চীনা বরকে এক নজর দেখতে ও তার সাথে ছবি তুলতে দূর দূরান্ত থেকে লোকজনকে বিয়ে বাড়িতে এসেও ভিড় করতে দেখা গেছে।
সুদূর চীন থেকে প্রেমের টানে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশে আসেন ও্য়্যাং সুলিন নামে ওই যুবক। পরে বাংলাদেশে এসে ধর্মান্তরিত হয়ে তিনি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন এবং তিনি মো. নুর উদ্দিন নামে নতুন নাম ধারণ করেছেন। পরে মুসলিম রীতিতে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন তিনি।
কনের পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ পৌর শহরের দৌলতপুর এলাকার বাসিন্দা ও স্থানীয় ফার্নিসার ব্যবসায়ী মো. নাজিম উদ্দিনের মেয়ে লিজা। তিনি মোহনগঞ্জ সরকারি কলেজে স্নাতক (সম্মান) দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। নাজিম উদ্দিনের বাড়ি পাশ্ববর্তী সুনামগঞ্জ জেলার ধর্মপাশা উপজেলার পাইকুরাটি ইউনিয়নের ভাটগাঁও গ্রামে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে মোহনগঞ্জ পৌরশহরের দৌলতপুর এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করে আসছেন।
অপরদিকে চীনের লুবেই প্রদেশের লুরাং শহরের বাসিন্দা ওয়্যাং সুলিন পেশায় একজন রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ী। তিনি এবং তাঁর ভাই মিলে চীনে রেস্তোরাঁর ব্যবসা পরিচালনা করেন।
ঘটনার শুরু মাস দুয়েক আগে। ফেসবুকে পরিচয়ের পর লিজা ও ওয়্যাং সুলিনের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে দুজনই বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন। বিষয়টি নিজ নিজ পরিবারকে জানালে উভয় পরিবার ইতিবাচক সাড়া দেয়। প্রেমের আহ্বানে সাড়া দিয়ে গত ১৮ জুলাই চীন থেকে বাংলাদেশে আসেন ওয়্যাং সুলিন। ঢাকা বিমানবন্দরে লিজার পরিবারের সদস্যরা তাঁকে অভ্যর্থনা জানিয়ে মোহনগঞ্জে নিয়ে আসেন।
পরে ২১ জুলাই ওয়্যাং সুলিন ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন এবং লিজার সঙ্গে আইনজীবীর মাধ্যমে এফিডেভিট করে তাঁদের বিয়ে সম্পন্ন হয়। আজ আনুষ্ঠানিকভাবে বিবাহউত্তোর সংবর্ধনা অনুষ্ঠান করে আনন্দ উৎসব করা হয়। এরআগে গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে অনুষ্ঠিত হয় তাদের গায়ে হলুদের অনুষ্ঠান। ভাড়া বাসার সামনে একটি খোলা জায়গায় মঞ্চ তৈরি করে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
সম্প্রতি চীনে বিদেশি কনে নিয়ে প্রতারণার বেশ কিছু খবর প্রকাশ পাওয়ায় বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করেছে কনের পরিবার।
লিজার বাবা মো. নাজিম উদ্দিন বলেন,
“ছেলের বাবা-মা ও স্বজনদের সঙ্গে কথা বলার পর আমরা চীনা দূতাবাসে গিয়েও ছেলে এবং ছেলের পরিবার সম্পর্কে যাবতীয় খোঁজখবর নিয়েছি। এমনকি ছেলের পরিবারে লোকজন প্রতিনিয়তই আমাদের সাথে যোগাযোগ করে আসছেন। তবে সব তথ্য সঠিক পাওয়ার পর আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে পরামর্শ করে বিয়ের সিদ্ধান্ত নিই। তিনি আরও বলেন, বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষে জামাই চীনে গিয়ে মেয়ের জন্য ভিসা ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত করে লিজাকে নিয়ে যাবে।”
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুস সাত্তার ও রফিকুল ইসলাম বলেন, পত্রপত্রিকায় আন্তর্জাতিক প্রতারক চক্রের খবর দেখে প্রথমে কিছুটা চিন্তিত ছিলাম। তবে যেহেতু মেয়ের বাবা চীনা দূতাবাস ও ছেলের পরিবারের সঙ্গে কথা বলে শতভাগ নিশ্চিত হয়ে বিয়ে দিয়েছেন, তাই সন্দেহের কোনো অবকাশ নেই। আমরা নবদম্পতির সুখী জীবনের জন্য দোয়া করি। আজকে এত মানুষের উপস্থিতিতে বিয়ের দাওয়াত খেতে এসেও ভালো লাগছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পৌরসভার সাবেক নারী কাউন্সিলর হেলেনা আক্তার বলেন, ছেলেটা চীনের হওয়ায় বিয়েটা দেখার জন্য আমাদের মাঝে আগ্রহটা একটু বেশি। প্রতিবেশী হিসেবে বিয়ের দাওয়াত খেতে এসে বেশ আনন্দ লাগছে। তাদের জন্য দোয়া রইল।
