আশাশুনিতে র্যাবের যৌথ অভিযানে ১৪ লাখ টাকার অপদ্রব্যযুক্ত বাগদা চিংড়ি জব্দ, দুই ব্যবসায়ী পলাতক
সাতক্ষীরাপ্রতিনিধি :
সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার শ্রীউলা ইউনিয়নের বুড়াখালী গ্রামে র্যাব-৬, উপজেলা প্রশাসন, মৎস্য বিভাগ ও আশাশুনি থানার যৌথ অভিযানে প্রায় ১৪ লাখ টাকা মূল্যের অপদ্রব্য পুশকৃত বাগদা চিংড়ি জব্দ করা হয়েছে। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্দেশে জব্দকৃত চিংড়ি সম্পূর্ণ ধ্বংস করা হয়। এ ঘটনায় জড়িত দুই ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
বুধবার (১ জুলাই) বিকেলে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত এ অভিযানে নেতৃত্ব দেন র্যাব-৬-এর কোম্পানি কমান্ডার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জয়নুদ্দীন জিয়াদ। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নাকিবুল ইসলাম। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম, আশাশুনি থানার এসআই আব্দুর রউফ এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অন্যান্য সদস্যরা।
উপজেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা যায়, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মৃত আব্দুল মান্নান সরদারের ছেলে রবিউল ইসলাম ও আব্দুল হামিদের বাড়িতে অবৈধভাবে বাগদা চিংড়িতে অপদ্রব্য পুশ করার প্রমাণ পাওয়া যায়। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে অভিযুক্ত দুই ভাই পালিয়ে যায়।
অভিযানে মহিষকুড় সেন্টারের মাছ ব্যবসায়ী ইলিয়াস হোসেন ও হারুনের অপদ্রব্য পুশকৃত ৬১ ক্যারেট বাগদা চিংড়ি, পুশিংয়ে ব্যবহৃত অপদ্রব্য এবং একাধিক সিরিঞ্জ জব্দ করা হয়।
পরে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্দেশে জব্দকৃত প্রায় ১ হাজার ৩৪২ কেজি বাগদা চিংড়ি রাস্তার ওপর ফেলে গাড়ির চাকার নিচে পিষ্ট করা হয় এবং পেট্রোল ঢেলে সম্পূর্ণ ধ্বংস করা হয়। মৎস্য বিভাগের তথ্যমতে, জব্দকৃত চিংড়ির আনুমানিক বাজারমূল্য ১৩ থেকে ১৪ লাখ টাকা।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মৎস্য ও খাদ্য নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট প্রচলিত আইনে মামলা দায়েরের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। একই সঙ্গে জনস্বাস্থ্য রক্ষায় অপদ্রব্য মিশিয়ে মাছ ও চিংড়ি বাজারজাতকারীদের বিরুদ্ধে ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান আরও জোরদার করা হবে।
জনস্বার্থে প্রশাসনের বার্তা:
“অপদ্রব্যযুক্ত মাছ ও চিংড়ি মানবদেহের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে এ ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।”
