তালা প্রতিনিধি
পিইডিপি-৪ এর আওতায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সাতক্ষীরার তালা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের সংস্কার ও মেরামত কাজের জন্য ৯ লাখ ২৪ হাজার ১৫৯ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়| কিন্তু প্রকল্পের উল্লেখযোগ্য অংশের কাজ ও মালামাল সরবরাহ সম্পন্ন না করেই ঠিকাদার কতৃক প্রায় ৬ লাখ ২৪ হাজার টাকা চলতি বিল উত্তোলন করেন| উক্ত ঠিকাদার পুনরায় প্রকল্পের কাজ সমাপ্ত না করে বাকি টাকা নয় ছয় এর মাধ্যমে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের কাছ থেকে ছাড়পত্র নিতে না পারায় টাকা উত্তোলনের চেষ্টা পন্ড হয়েছে গিয়েছে| এদিকে ঠিকাদারের বাস্তবায়িত কাজ যাচাই বাছাই করার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল|
জানাযায়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে উপজেলা প্রকৌশল অফিসের মাধ্যমে আহ্বানকৃত দরপত্রে খুলনার সোনিয়া এন্টার প্রাইজের সত্বাধিকারী জাকির হোসেন টেন্ডার কার্যাদেশ লাভ করেন| কার্যাদেশ অনুযায়ী অফিসের বিভিন্ন আসবাবপত্র ও অবকাঠামোগত সামগ্রী সরবরাহের কথা থাকলেও বাস্তবে তার বড় একটি অংশ এখনও সরবরাহ করা হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে|
সরেজমিনে তালা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস পরিদর্শন করে দেখা যায়, কার্যাদেশে উল্লেখিত ২৪টি ক্যাটাগরির মধ্যে অন্তত ১০টি ক্যাটাগরির মালামাল এখনও সরবরাহ করা হয়নি| এর মধ্যে রয়েছে ৩টি স্টাফ চেয়ার (মূল্য ৫১ হাজার ৪৫৩ টাকা), ৩টি স্টাফ চেয়ার (মূল্য ৩৪ হাজার ৮০৬ টাকা), ৩টি আলমারি (মূল্য ৮০ হাজার ২৭১ টাকা), ৮টি টেবিল (মূল্য ৯৯ হাজার ৮৮০ টাকা), ৮টি কাঠের চেয়ার (মূল্য ১ লাখ ২১ হাজার ৬৬ টাকা), ১টি গ্রিল গেট (মূল্য ২১ হাজার ১০২ টাকা), ৩টি কম্পিউটার টেবিল (মূল্য ৩৬ হাজার ৩২০ টাকা), ৩টি কম্পিউটার চেয়ার (মূল্য ১৭ হাজার ৫৬২ টাকা), ১০টি গেস্ট চেয়ার (মূল্য ৮১ হাজার ৯৭২ টাকা) এবং একটি ফটোকপি মেশিন টেবিল (মূল্য ১৯ হাজার ১৬৮ টাকা)| সরবরাহ না করা এসব মালামালের মোট মূল্য প্রায় ৫ লাখ ৪৪ হাজার ৬০০ টাকা|
অপরদিকে বাকি ১৩টি ক্যাটাগরির মালামাল ও সংস্কার কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে, যার দরপত্র অনুযায়ী মূল্য ৩ লাখ ৭৯ হাজার ৫৫৯ টাকা| কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, কাজের এ পরিমাণ অগ্রগতি দেখিয়েই গত ২৪ ফেব্রুয়ারি প্রায় ৬ লাখ ২৪ হাজার টাকা বিল উত্তোলন করা হয়েছে|
সরেজমিনে অফিসের বিভিন্ন কক্ষ ঘুরে দেখা যায়, কার্যাদেশে উল্লেখিত বেশ কিছু আসবাবপত্রের কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি| অথচ প্রকল্পের মোট বরাদ্দের বড় একটি অংশের বিল ইতোমধ্যে উত্তোলন করা হয়েছে| এতে প্রকল্প বাস্তবায়ন, মালামাল সরবরাহ এবং বিল প্রক্রিয়াকরণ নিয়ে জনমনে গুরুতর প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে|
অভিযোগ রয়েছে, বিল উত্তোলনের প্রক্রিয়া নির্বিঘ্ন করতে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের কাছ হতে আপোষে একটি ছাড়পত্র নেওয়া চেষ্টা করেন|কিন্তু প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার কাজের অগ্রগতি না থাকায় এবং বাস্তবায়িত কাজের প্রমাণ না থাকায় ছাড়পত্র প্রদানে অস্বীকৃতি জানান|
তথ্যানুসন্ধানে আরও জানা যায়, একই ঠিকাদার ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ২১ লাখ ২৩ হাজার ২২৯ টাকার মেরামত ও সংরক্ষণ প্রকল্পের কার্যাদেশও পান| ওই প্রকল্পে কার্যাদেশ অনুযায়ী ৭টি সিলিং ফ্যান সরবরাহের কথা থাকলেও প্রায় ২৫ হাজার ৯৯৮ টাকার ওই সামগ্রী সরবরাহ করা হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে| ফলে একই ঠিকাদারের বিরুদ্ধে পরপর দুই অর্থবছরে সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়মের অভিযোগ ওঠায় বিষয়টি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে|
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) সন্তোষ কুমার মণ্ডল জানান,তার অফিসের সংস্কার ও মেরামত খাতে ২০২৫-২৬ আর্থিক সনে ৯ লক্ষ ২৪ হাজার ১৫৯ টাকা এর মধ্যে ৩ লাখ ৭৯ হাজার ৫৫৯ টাকার আংশিক কাজ বাস্তবায়ন হয়েছে| বাকী ৫ লক্ষ ৪৪ হাজার ৬০০ টাকার কাজ বাস্তবায়ন হয়নি| কিন্তু ২৪/০২/২৬ তারিখ ৬ লক্ষ ২৪ হাজার টাকা চলতি বিল উত্তোলন করেছেন ঠিকাদার| কাজ না করে বিল উত্তোলন করা হয়েছে|
এ বিষয়ে ঠিকাদার জাকির হোসেনের মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন রিসিভ না করায় তার বক্তব্য সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি|
উপজেলা প্রকৌশলী রথীন্দ্রনাথ হালদার জানান, পিইডিপি-৪ এর আওতায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সংস্কার ও মেরামত কার্যক্রম সমাপ্ত করতে ঠিকাদারের পত্র দেওয়া হয় কিন্তু ঠিকাদার প্রকল্প সমাপ্ত না করায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার জান্নাতুল আফরোজ ¯^র্ণা, প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) সন্তোষ কুমার মণ্ডল, উপজেলা প্রকৌশলী এর যৌথ মিটিং এর মাধ্যমে সিধান্ত হয়েছে প্রকল্পের কাজ সমাপ্ত না করায় বিল প্রদান করা হয়নি| প্রকল্পের অনূকূলে ঠিকাদারের অগ্রিম ১৭ পাসেন্ট জামানত সরকারের অনূকূলে বাজেয়াপ্ত করা হবে|
এদিকে প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে ঠিকাদার কতৃক ২০২৪-২৫ অর্থ বছরে ফ্যান বিতরণ না করা ও ২০২৫-২৬ অর্থ বছরে বাস্তবায়িত প্রকল্পের চলিত বিলের ৬ লক্ষ ২৪ হাজার টাকা উত্তোলন করা হয়েছে| বাস্তবায়নকৃত প্রকল্পের চেয়ে অধিক টাকা উত্তোলন করা হয়েছে মর্মে অভিযোগ থাকায় তদন্ত পূর্বক উক্ত ঠিকাদারের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য দাবি জানানো হয়েছে|
