মোহনগঞ্জে স্কুলছাত্রী ধর্ষণ মামলায় পলাতক আসামি মুন্না গ্রেপ্তার
চয়ন চৌধুরী, মোহনগঞ্জ থেকেঃ
নেত্রকোনা মোহনগঞ্জ উপজেলায় চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে দায়েরকৃত মামলার পলাতক আসামি মুন্না মিয়াকে (২৫) গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার ভোরে নেত্রকোনা শহরে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে র্যাব -১৪।
পরে তাকে মোহনগঞ্জ থানায় সোপর্দ করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃত মুন্না মিয়া উপজেলার সুয়াইর ইউনিয়নের রানা হিজল গ্রামের শহিদ আলম ওরফে ছোট্টন মিয়ার ছেলে।
মোহনগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. হাফিজুল ইসলাম হারুন মুন্নাকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে মঙ্গলবার দুপুরে তাকে আদালতে মাধ্যমে জেল-হাজতে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী শিশুটি স্থানীয় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী। দরিদ্র পরিবারের ওই শিশুটি তার পরিবারের সাথে অন্যের বাড়িতে বসবাস করে আসছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, গত ১২ জুন রাত ১০ টার দিকে শিশুটি প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে ঘরের বাইরে বের হয়। এসময় আগে থেকে ওঁৎ পেতে থাকা প্রতিবেশী লম্পট মুন্না শিশুটিকে জোরপূর্বক ধরে নিয়ে যায়। পরে বাড়ির পাশের একটি পরিত্যক্ত রান্নাঘরে নিয়ে হাত-পা ও মুখ বেঁধে শিশুটিকে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে। মামলার এজাহারে আরও বলা হয় এবং এ বিষয়টি পরিবারের কাউকে জানালে তাকে হত্যা করা হবে বলেও শিশুটিকে হুমকি দেওয়া হয়।
এঘটনার পর ভয়ে শিশুটি প্রথমে এ বিষয়টি কাউকে জানায়নি। পরদিন শিশুটির শারীরিকভাবে অসুস্থতার পাশাপাশি অব্যাহত রক্তক্ষরণ হতে থাকায় সে তার ফুফুর কাছে ঘটনাটি খুলে বলে। পরে তার ফুফু বিষয়টি শিশুটির বাবার কাছে জানান।
অভিযোগ রয়েছে, ঘটনার বিচার চেয়ে অভিযুক্তের পরিবারের কাছে গেলে তারা বিষয়টি আমলে না নিয়ে উল্টো তারা ভুক্তভোগী পরিবারকে হুমকি দিয়ে বাড়ি থেকে বেড় করে দেন।
পের নিরুপায় হয়ে শিশুটির পিতা বাদি হয়ে ওই রাতেই মোহনগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। পরে পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে ঘটনার সত্যতা পাওয়ায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে অভিযুক্ত মুন্নার বিরুদ্ধে মামলা রুজু করে।
মামালা দায়েরের পরপরই অভিযুক্ত মুন্না বাড়ি ছেড়ে গা-ঢাকা দেয়।
এদিকে আসামি মুন্নাকে গ্রেপ্তার করতে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করে আইন-শৃঙ্খলার বাহিনী। এক পর্যায়ে তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় নেত্রকোনা সিএনজি স্ট্যান্ড এলাকায় তার অবস্থান শনাক্ত করা হয়।
পরে মঙ্গলবার ভোরে র্যাব-১৪ ময়মনসিংহের একটি দল সেখানে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে।
মোহনগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাফিজুল ইসলাম হারুন বলেন, মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। তদন্তে নতুন কোনো তথ্য বা অন্য কারও সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
