মোহনগঞ্জে ব্যবসায়ী নারায়ণ পাল হত্যার রহস্য উদঘাটন ও বিচার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন
চয়ন চৌধুরী, মোহনগঞ্জ প্রতিনিধি
নেত্রকোনার মোহনগঞ্জে ব্যবসায়ী নারায়ণ চন্দ্র পাল হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন, জড়িতদের গ্রেপ্তারসহ দ্রুত বিচার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে মোহনগঞ্জ বাজার বণিক সমিতি।
শুক্রবার বেলা ১১টায় পৌরশহরের শহীদ ফজলুর রহমান সড়কে অবস্থিত বণিক সমিতির অস্থায়ী কার্যালয়ে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
এতে নিহত ব্যবসায়ী নারায়ণ চন্দ্র পালের পরিবার ও স্থানীয় ব্যবসায়ী নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন নিহতের স্ত্রী লিপি রানি পাল, মোহনগঞ্জ বাজার বণিক সমিতির সভাপতি মাসুদ মিয়া, সহ-সভাপতি হাজি দুদু মিয়া, গোলাম রব্বানী, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক বিমল চন্দ্র পাল, ব্যবসায়ী নেতা হাবিবুর রহমান দোহা, দীপক বণিক এবং শ্যামল মোল্লাসহ অন্যান্যরা।
বক্তারা বলেন, ঘটনার দীর্ঘ সময় পার হলেও হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন হয়নি এবং কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। এতে নিহতের পরিবার ও ব্যবসায়ী সমাজের মধ্যে হতাশা ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তারা দ্রুত এ হত্যাকান্ডের সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ২০২৫ সালের ৬ অক্টোবর রাতে মোহনগঞ্জ থানার মাত্র ১৫০ গজ দূরে বসুন্ধরা মোড় এলাকায় নিজ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ‘নারায়ণ স্টোর’-এর ভেতরে মুদি ব্যবসায়ী নারায়ণ চন্দ্র পালকে গলা কেটে হত্যা করা হয়। ঘটনার পরদিন নিহতের স্ত্রী লিপি রানি পাল অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে মোহনগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
বণিক সমিতির নেতারা অভিযোগ করেন, ঘটনার প্রায় সাড়ে আট মাস পেরিয়ে হলেও মামলার তদন্তে দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। ফলে নিহতের পরিবার এখনো বিচারহীনতার শঙ্কায় দিন কাটাচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে খুনীরা মোহনগঞ্জ বাজারে এমন আরও ঘটনা ঘটাতে সাহস পাবে। আর এ ঘটনার পর থেকেই আমাদের ব্যবসায়ী সমাজের মধ্যেও চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
এ বিষয়ে মোহনগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাফিজুল ইসলাম হারুন বলেন, মামলাটি থানা-পুলিশের পাশাপাশি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ছায়া তদন্ত করছে। হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন এবং জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশ আন্তরিকভাবে কাজ করছে। তদন্তের স্বার্থে সব বিষয় গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, “ব্যবসায়ী নারায়ণ চন্দ্র পাল হত্যার ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। তদন্তে কোনো ধরনের গাফিলতি বা ত্রুটি নেই।”
