শ্যামনগরে শিক্ষক, মুক্তিযোদ্ধা ও সাহিত্যিকসহ ১০ গুণীজন সংবর্ধিত
মোঃ আরিফুজ্জামান আরিফ, শ্যামনগর প্রতিনিধিঃ
শিক্ষা, মুক্তিযুদ্ধ, সাহিত্য, কৃষি, সংগীত, সমাজসেবা ক্রীড়া ও সাংবাদিকতাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ সাতক্ষীরার শ্যামনগরে ১০ গুণীজনকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে। শনিবার (৩১ অক্টোবর) সন্ধ্যায় শ্যামনগর উপজেলা প্রেসক্লাবের আয়োজনে উপজেলা অডিটোরিয়ামে ‘নক্ষত্রের অভিবাদন’ শীর্ষক এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়।সংবর্ধিতদের মধ্যে রয়েছেন ৩৬ বছরের শিক্ষকতা জীবনে শিক্ষার আলো ছড়ানো স্বপন কুমার মুখার্জী, ৯২ বছর বয়সী শিক্ষক ও সাহিত্যিক মাস্টার কেরামত উল্লাহ এবং মুক্তিযুদ্ধে শ্যামনগরকে হানাদারমুক্ত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা এস এম মিজানুর রহমান।অভাব-অনটনের মধ্যেও দীর্ঘ শিক্ষকতা জীবনে শিক্ষার্থীদের পাঠদানের পাশাপাশি আর্থিক সহায়তা ও বিনা পারিশ্রমিকে বাড়িতে পড়ানোর মাধ্যমে তাঁদের সাফল্যে অবদান রাখেন স্বপন কুমার মুখার্জী। অন্যদিকে, ১৯৫৩ সালে ম্যাট্রিকুলেশন পাস করা কেরামত উল্লাহ ‘লাল সংকেত’ ও ‘স্রোতস্বিনী’সহ অসংখ্য গল্প, কবিতা ও প্রবন্ধ রচনা করেছেন। তাঁর লেখা ‘শ্যামনগরের ইতিহাস’ স্থানীয় ইতিহাস সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।মুক্তিযোদ্ধা এস এম মিজানুর রহমান ১৯৭১ সালের ১৯ নভেম্বর গোপালপুর এলাকায় পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে সম্মুখযুদ্ধে অংশ নেন। ওই যুদ্ধে পায়ে গুলিবিদ্ধ হয়েও তিনি লড়াই চালিয়ে যান। তাঁর ইউনিটের দুই সহযোদ্ধা সেদিন শহীদ হন। তাঁদের সাহসিকতায় পাকিস্তানি বাহিনী পিছু হটতে বাধ্য হয়। অনুষ্ঠানে কৃষিতে মনোতোষ মণ্ডল, সংগীতে প্রয়াত অনিমেষ ব্যানার্জী, শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠায় আরশাদ আলী মোড়ল, সমাজসেবায় আলহাজ আবুল কালাম বাবলা, ক্রীড়ায় ফিরোজ হোসেন, সাংবাদিকতায় প্রয়াত আনোয়ার হোসেন মল্লিক এবং জনসেবায় প্রয়াত চেয়ারম্যান বিশ্বনাথ দাসকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। প্রয়াত ব্যক্তিদের পক্ষে তাঁদের পরিবারের সদস্যরা সম্মাননা স্মারক গ্রহণ করেন।শ্যামনগর উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি প্রভাষক সামিউল মনিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামছুজ্জাহান কনক। সংবর্ধিত গুণীজনদের হাতে স্মারক ও উপহারসামগ্রী তুলে দেওয়া হয়।এ ছাড়া প্রতিকূলতা মোকাবিলা করে সাফল্য অর্জন এবং অন্যদের জন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করায় কোরআনের হাফেজ রিয়াসাত, স্বেচ্ছাসেবী হাফিজ, শিক্ষার্থী শারমিন ও ক্রীড়াবিদ রেহানাসহ ১২ জনকে বিশেষ পুরস্কার দেওয়া হয়।অনুষ্ঠানে প্রয়াত আইনজীবী নুরুল হক, সাবেক জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আইনজীবী আবুল হোসেন, উপজেলা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক নজরুল ইসলাম এবং সুন্দরবনের বাঘ শিকারি পচাব্দী গাজীকে বিশেষভাবে স্মরণ করা হয়।এ সময় উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক সোলায়মান কবীর, পৌর বিএনপির আহ্বায়ক শেখ লিয়াকত আলী বাবু, উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমির প্রভাষক ফজলুল হক, ডেইলি স্টারের সাতক্ষীরা প্রতিনিধি কল্যাণ ব্যানার্জী, অধ্যক্ষ আবু সাঈদ মাহমুদ, এনজিএফের পরিচালক লুৎফর রহমান ও প্রভাষক সিদ্দিকুল ইসলাম বকুলসহ স্থানীয় বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রেসক্লাবের উদ্যোগে প্রকাশিত ‘আত্মপ্রকাশ’ স্মরণিকার মোড়ক উন্মোচন করেন প্রধান অতিথি।
