মৎস্য ঘের কেন্দ্রিক জামায়াত নেতা আব্দুস সবুরের বিরুদ্ধে অভিযোগকে মিথ্যা স্বীকার করে জয়নাল আবেদীনের ক্ষমা প্রার্থনা

Date:

Share:

​সাতক্ষীরার বাগডাঙ্গায় মৎস্য ঘের কেন্দ্রিক জামায়াত নেতা মাও: আব্দুস সবুরের বিরুদ্ধে অভিযোগকে মিথ্যা স্বীকার করে ঘের মালিক জয়নাল আবেদীনের ক্ষমা প্রার্থনা

মোস্তাকীম হোসাইন, সাতক্ষীরা প্রতিনিধিঃ

সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ধুলিহর ইউনিয়নের বাগডাঙ্গা গ্রামে মৎস্য ঘেরে লুটপাট, অগ্নিসংযোগ, গাছ কেটে ফেলা এবং সরকারি ওয়াপদার বেড়িবাঁধ কেটে পিভিসি পাইপ স্থাপনের অভিযোগ নিয়ে নতুন করে উল্টা বক্তব্য দিয়েছে অভিযোগকারী।
অভিযোগকারী ঘের মালিক জয়নাল আবেদিন বৃহস্পতিবার (০৮ অক্টোবর) ঘটনাস্থলে গিয়ে আগের অভিযোগকে নিজেদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি এবং মিথ্যা ছিলো বলে উল্লেখ করেছেন।
সাতক্ষীরা সদর উপজেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা আব্দুস সবুর সরকারি অনুমতির ভিত্তিতেই পানি নিষ্কাশনের জন্য কাজ করার দাবি করেলে ও গত সোমবার ( ৫ অক্টোবর) প্রকাশিত প্রতিবেদনে বাগডাঙ্গা গ্রামের আব্দুস ছাত্তারের ছেলে জয়নাল আবেদিন অভিযোগ করেছিলেন, রোববার রাতে তার পৈতৃক সূত্রে পাওয়া প্রায় ৮ বিঘা জমির মৎস্য ঘেরে হামলা, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। ঘেরের আইলে থাকা আম, পেঁপেসহ বিভিন্ন ফলজ গাছ কেটে ফেলা হয় এবং এতে প্রায় ১০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।
ওই সময় জয়নাল আবেদিন মাওলানা আব্দুস সবুর ও তার স্বজনদের বিরুদ্ধে ঘের দখলের চেষ্টা, হামলা ও লুটপাটের অভিযোগ করেন। পাশাপাশি সরকারি নির্দেশ অমান্য করে ওয়াপদার বেড়িবাঁধ কেটে পিভিসি পাইপ স্থাপনের অভিযোগও তোলেন তিনি।
তবে বৃহস্পতিবার ( ৮ অক্টোবর) সকালে ঘটনাস্থলে সরেজমিনে গিয়ে জয়নাল আবেদিন আগের বক্তব্যের বিষয়কে নিজেদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি বলে উল্লেখ করেন। আগের বক্তব্যের বিষয়ে তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন এবং ঘটনাটিকে ভুল হিসেবে স্বীকার করেন।
সরকারি নির্দেশ অমান্য করে পিভিসি পাইপ স্থাপনের বিষয়ে জানতে চাইলে জয়নাল আবেদিন বলেন, কাজটি সরকারি অনুমতির ভিত্তিতেই শুরু করা হয়েছিল। তার দাবি, গত ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখের সরকারি অনুমতির আলোকে কাজ শুরু করা হয়। পানি নিষ্কাশনের কাজটি সরকারি নির্দেশ অমান্য করে করা হয়েছে—এমন আগের বক্তব্যও সঠিক নয় বলে জানান।

বৃহস্পতিবার (০৮ অক্টোবর) সকালে ঘটনাস্থল থেকে সাতক্ষীরা সদর উপজেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা আব্দুস সবুর বলেন, এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে জলাবদ্ধতার সমস্যায় রয়েছে। পুরোনো ম্যাপ অনুযায়ী ওই এলাকায় একটি খাস খাল নদীর সঙ্গে সংযুক্ত ছিল বলে দাবি করেন তিনি। পানি নিষ্কাশনের সুবিধার্থে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সুপারিশের ভিত্তিতে গত ২৯ সেপ্টেম্বর পানি উন্নয়ন বোর্ডের কাছে কাজের অনুমতি চাওয়া হয় এবং অনুমতি পাওয়ার পরই কাজ শুরু করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
আব্দুস সবুর আরো বলেন, সরকারি বিধি অনুযায়ী অনুমতি নিয়েই সেখানে কাজ করা হয়েছে এবং সেই অনুমতিপত্র ও সংশ্লিষ্ট স্মারক তাদের কাছে রয়েছে।
রাতে কাজ করার অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ঢাকা থেকে পিভিসি পাইপ সকালে এলেও এক্সকাভেটর মেশিন আসতে দেরি হওয়ায় কাজ শুরু করতে সন্ধ্যা হয়ে যায়। এ কারণে রাতে কাজ করতে হয়েছে।
পানি নিষ্কাশনের উদ্যোগকে স্বাগত স্থানীয়দের কয়েকজন বলেন, এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে জলাবদ্ধতা সমস্যা। পুরোনো খাল ও পানি প্রবাহের পথ সচল করা গেলে বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা কমানো এবং স্থানীয় মানুষের দুর্ভোগ লাঘব করা সম্ভব হবে।
স্থানীয়রা আরো বলেন, পানি নিষ্কাশনের পথ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা থাকলেও বাস্তবসম্মত উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এ কাজে মাওলানা আব্দুস সবুর উদ্যোগ নেওয়ায় তারা বিষয়টিকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন। স্থানীয় কয়েকজন তার সামাজিক কর্মকাণ্ড ও মানুষের প্রয়োজনে পাশে থাকার উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেন। ঘের মালিক জয়নাল আবেদিন বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন ধরনের বক্তব্য দেওয়ায় এলাকায় বিরোধের সৃষ্টি হয়। বিষয়টি নিরসনে সাতক্ষীরা সদর আসনের সাংসদ মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক, সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের আমির উপাধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম মুকুলকে বিষয়টি নিরসনের উদ্যোগ গ্রহণ করেন।
জেলা আমিরের নির্দেশে জামায়াতে ইসলামীর ১০-২০ সদস্যের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে। বিপুলসংখ্যক স্থানীয় মানুষের কাছে ঘটনা সত্যতা সম্পর্কে জানার চেষ্টা করেন। তদন্তে জয়নাল আবেদিনের করা অভিযোগের সঙ্গে বাস্তবতার মিল পাওয়া যায়নি। পরে বুধবার (০৭ অক্টোবর) সাতক্ষীরা জেলা জামায়াত অফিসের কার্যালয়ে জেলা জামায়াতের আমির উপাধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম মুকুলের সভাপতিত্বে স্থানীয়দের উপস্থিতিতে একটি সমঝোতা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকে মাওলানা আব্দুস সবুর ও তার ভাই-ভাতিজাদের বিরুদ্ধে করা অভিযোগগুলো মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন বলে সর্বস্বীকৃত হয়।
ঘটনাস্থলে গিয়ে কয়েকটি পেঁপে ও কলাগাছ কাটা অবস্থায় দেখা গেছে। তবে এইসব গাছ জলাবদ্ধতায় ভুক্তভোগী উৎসুক জনতার একটি অংশ করেছে বলে জানা যায়। ঘের থেকে মাছ লুট, অগ্নিসংযোগ এবং অন্যান্য ক্ষয়ক্ষতির অভিযোগেরও স্বাধীন কোনো প্রমাণ সরেজমিনে পাওয়া যায়নি।
প্রকৃত ঘটনা নির্ধারণে পানি উন্নয়ন বোর্ডের অনুমতিপত্র, সংশ্লিষ্ট স্মারক নং ৩০ম- ২/১৫৬০, পুরোনো ও নতুন ম্যাপ যাচাই করে সেখানে খাস খালের সত্যতা পাওয়া গেছ বলে জানা যায়।

৮ অক্টোবর ২০২৬
মৎস্য ঘের কেন্দ্রিক জামায়াত নেতা আব্দুস সবুরের বিরুদ্ধে অভিযোগকে মিথ্যা স্বীকার করে জয়নাল আবেদীনের ক্ষমা প্রার্থনা