মোহনগঞ্জে ছাত্রলীগ নেতার নেতৃত্বে হামলায় যুবদল নেতা আহত

Date:

Share:

মোহনগঞ্জে ছাত্রলীগ নেতার নেতৃত্বে হামলায় যুবদল নেতা আহত

চয়ন চৌধুরী, মোহনগঞ্জ থেকেঃ

নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগ নেতা রবিন চৌধুরীর নেতৃত্বে অতর্কিত হামলা চালিয়ে জামির মিয়া (৩২) নামে এক যুবদল নেতাকে গুরুতর আহত করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
আহত যুবদল নেতা জামির মিয়াকে মোহনগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
এ ঘটনায় সোমবার সকালে আহত জামিরের বড় ভাই খায়রুল মিয়া বাদি হয়ে ছাত্রলীগ নেতা রবিন চৌধুরীসহ ৬ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ৫-৬ জনকে আসামি করে মোহনগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।
এর আগে রোববার রাত আটটার দিকে উপজেলার গাগলাজুর ইউনিয়নের বরান্তর বাজারে এ হামলার ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় দায়েরকৃত মামলার ২ নাম্বার আসামি বরান্তর গ্রামের মৃত কমর উদ্দিন চৌধুরীর ছেলে রাহিম চৌধুরীকে (৪২) গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

আহত জামির মিয়া বরান্তর কান্দারবাড়ি গ্রামের মৃত আব্দুল হাশিমের ছেলে এবং তিনি গাগলাজুর ইউনিয়নের ৩ নাম্বার ওয়ার্ড যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক।
অন্যদিকে, অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতা রবিন চৌধুরী একই গ্রামের রেজেক চৌধুরীর ছেলে এবং তিনি নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের উপজেলা কমিটির সদস্য।
সোমবার রাত আটটার দিকে মোহনগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. হাফিজুল ইসলাম হারুন এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ, হাসপাতাল ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে,
উপজেলার বরান্তর কান্দারবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা ও যুবদল নেতা জামির মিয়ার সাথে একই গ্রামের বাসিন্দা ও ছাত্রলীগ নেতা রবিন চৌধুরীর স্থানীয় বিভিন্ন বিষয়াদি নিয়ে পূর্ব বিরোধ চলে আসছিল।
এরই জের ধরে রোববার রাত আটটার দিকে বরান্তর বাজারের রাস্তায় ওয়ার্ড যুবদল নেতা জামির মিয়াকে একা পেয়ে ছাত্রলীগ নেতা রবিন চৌধুরীর নেতৃত্বে ১০-১২ জন যুবক ধারালো অস্ত্র নিয়ে জামির মিয়ার উপর অতর্কিতভাবে হামলা চালিয়ে তাকে রক্তাক্ত জখম করে। পরে স্থানীয় লোকজনকে ঘটনাস্থলে আসতে দেখে রবিন চৌধুরীসহ তার লোকজন সেখান থেকে সটকে পড়েন। পরে স্থানীয়রা রক্তাক্ত অবস্থায় জামির মিয়াকে উদ্ধার করে ওই রাত সাড়ে দশটার দিকে মোহনগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে ভর্তি করেন।
অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতা রবিন চৌধুরী বলেন, জামিরের সাথে আমার কোনো ঝামেলা নেই। তার সাথে আমার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক। মূলত পাশের রাজিবপুর গ্রামের জামিরের আত্মীয়দের একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাদের নিজেদের মধ্যে বাজারে এ ঘটনাটি ঘটেছে। এর ঘটনার সাথে আমার কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা নেই। রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতেই মূলত একটি চক্র আমাকে ফাঁসিয়েছে।
এ বিষয়ে মোহনগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুল ইসলাম হারুন বলেন, এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। মামলার পরপরই অভিযান চালিয়ে রাহিম চৌধুরী নামে মামলার ২ নাম্বার আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তার চেষ্টা অব্যাহত

২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
মোহনগঞ্জে ছাত্রলীগ নেতার নেতৃত্বে হামলায় যুবদল নেতা আহত