ধর্মপাশায় স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতা সাংবাদিক রবি গ্রেপ্তার
চয়ন চৌধুরী, ধর্মপাশা থেকেঃ
সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা পুলিশ এসল্ট মামলার পলাতক আসামি ও ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতা সাংবাদিক রবি মিয়াকে (৩০) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শনিবার সকাল সাড়ে দশটার দিকে পুলিশ অভিযান চালিয়ে উপজেলার পাইকুরাটি ইউনিয়নের গাছতলা বাজার এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার রবি মিয়া উপজেলার সেলবরষ ইউনিয়নের কাকিয়াম গ্রামের হেলাল মিয়ার ছেলে এবং তিনি নিজেকে বিভিন্ন অনলাইন পোর্টালের সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে এলাকায় নানা অপরাধমূলক কর্মকান্ড পরিচালনা করে আসছিলেন।
এছাড়াও তিনি সেলবরষ ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবকলীগের কমিটিতে ১৮ নাম্বার সদস্য হিসেবে তার নাম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
ধর্মপাশা থানার ওসি (তদন্ত) মোহাম্মদ ইমাম হোসেন এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত ৩১মে সকালে বাদশাগঞ্জ বাজারে একটি দোকানঘরের সীমানা বিরোধকে কেন্দ্র করে ইউনিয়ন বিএনপির নেতা সোনা মিয়াসহ তার পক্ষের লোকজনের উপর আনার মিয়ার পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্র-শস্ত্রে সজ্জিত হয়ে অতর্কিত হামলা চালায়। এ হামলায় সোনা মিয়াসহ তার পক্ষের বেশ কয়েকজন লোক গুরুতর আহত হন। পরে এ ঘটনা নিয়ে দুই পক্ষের লোকজনের মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আনার মিয়াসহ ৪ জনকে আটক করে নিয়ে যাওয়ার সময় স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতা সাংবাদিক রবি মিয়াসহ স্থানীয় প্রায় অর্ধশতাধিক লোক দলবদ্ধ হয়ে পুলিশের কাছ থেকে আটককৃতদের ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে পুলিশের উপর অতর্কিত হামলা চালায়। এ ঘটনায় তিন পুলিশ সদস্য আহত হন। পরে পুলিশের উপর হামলা ও আহতের ঘটনায় গত ১ জুন পুলিশ বাদি হয়ে ২৪ জনের নামোল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৩০-৪০ জনকে আসামি করে ধর্মপাশা থানায় একটি পুলিশ এসল্ট মামলা দায়ের করা হয়। উক্ত মামলার আসামি ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতা সাংবাদিক রবি মিয়া তখন থেকেই পলাতক ছিলেন। শনিবার সকালে তিনি পাইকুরাটি ইউনিয়নের ঝিংলীগড়া গ্রাম থেকে পাশের গাছতলা বাজারে আসছেন। এমন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ সেখানে় অভিযান চালায় এবং গাছতলা বাজার এলাকা থেকে রবিকে গ্রেপ্তার করে।
ধর্মপাশা থানার ওসি (তদন্ত) মোহাম্মদ ইমাম হোসেন বলেন, পুলিশ এসল্ট মামলার এজাহারনামীয় পলাতক আসামি রবিকে গ্রেপ্তার করার পর ওইদিন দুপুরেই তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
