টেকনাফে আকস্মিক বন্যায় ৩৮০ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে যুব সংগঠন, শুরু জরুরি মানবিক সহায়তা

Date:

Share:

টেকনাফে আকস্মিক বন্যায় ৩৮০ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে যুব সংগঠন, শুরু জরুরি মানবিক সহায়তা

(আবু মুসা) টেকনাফ কক্সবাজার প্রতিনিধি | ১১ জুলাই ২০২৬

টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যায় কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা ও হোয়াইক্যং ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এতে শত শত পরিবার পানিবন্দি হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে। বন্যার পানিতে অসংখ্য বসতঘর, কাঁচা সড়ক, নলকূপ ও স্যানিটেশন ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় নিরাপদ পানীয় পানি ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে।

এমন দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতিতে স্থানীয় যুব নেতৃত্বাধীন সংগঠন SHAY (Support for Humanitarian Aid Youth Society), JYDA Bangladesh এবং Youth Peacebuilders, ActionAid Bangladesh-এর সহযোগিতায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য জরুরি মানবিক সহায়তা কার্যক্রম শুরু করেছে।

সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বন্যার শুরু থেকেই প্রশিক্ষিত যুব স্বেচ্ছাসেবকেরা স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, কমিউনিটি নেতা ও মানবিক সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে দুর্গত মানুষের পাশে কাজ করছেন। তারা ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া, শুকনো খাবার ও নিরাপদ পানীয় পানি বিতরণ, পাহাড়ধসের ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং ক্ষয়ক্ষতির তথ্য সংগ্রহ ও জরুরি চাহিদা নিরূপণের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।

বর্তমানে অনেক পরিবার নিজ নিজ ঘরে অবস্থান করলেও রান্নার ব্যবস্থা, বিশুদ্ধ পানি সংগ্রহ এবং ন্যূনতম স্বাস্থ্যবিধি বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে নারী, শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি, গর্ভবতী নারী ও অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগের মুখে পড়েছেন।

SHAY-এর প্রতিনিধি আলম মুহাম্মদ রাসেল বলেন, “ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সঙ্গে কথা বলে আমরা বুঝতে পেরেছি, তাদের সবচেয়ে বড় সংকট নিরাপদ পানীয় পানি। প্রায় প্রতিটি পরিবারই আমাদের কাছে বিশুদ্ধ পানির আবেদন জানিয়েছে। তাই স্থানীয় প্রশাসন, কমিউনিটি ও মানবিক অংশীজনদের সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত প্রয়োজনীয় সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।”

তিনি জানান, জরুরি সাড়া কার্যক্রমের প্রথম ধাপে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত ৩৮০টি পরিবারের প্রায় ১ হাজার ৯০০ মানুষের মাঝে শুকনো খাবার, নিরাপদ পানীয় পানি, জরুরি ত্রিপল, ওরাল রিহাইড্রেশন সল্ট (ওআরএস) এবং নারী ও কিশোরীদের জন্য ডিগনিটি কিট বিতরণ করা হবে। একই সঙ্গে পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজন অনুযায়ী সহায়তার পরিধি বাড়ানোর পরিকল্পনাও রয়েছে।

সংগঠনগুলোর নেতারা জানান, চলমান বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে। তাই সরকারি প্রতিষ্ঠান, মানবিক সংস্থা, দাতা ও উন্নয়ন সহযোগীদের সমন্বিত উদ্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য জরুরি খাদ্য, নিরাপদ পানি, স্বাস্থ্যসেবা ও আশ্রয় সহায়তা জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

স্থানীয়দের আশা, সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগের সমন্বয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় সহায়তা পৌঁছালে দুর্গত মানুষের দুর্ভোগ অনেকটাই লাঘব হবে।

১১ জুলাই ২০২৬
টেকনাফে আকস্মিক বন্যায় ৩৮০ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে যুব সংগঠন, শুরু জরুরি মানবিক সহায়তা