ধর্মপাশায় ১৫ টাকা কেজির চাল ওজনে কম দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে

Date:

Share:

ধর্মপাশায় ১৫ টাকা কেজির চাল ওজনে কম দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে

 

চয়ন চৌধুরী, ধর্মপাশা থেকেঃ

সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলায় খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ১৫ টাকা কেজি দরের চাল বিক্রিতে ডিলারের বিরুদ্ধে ওজনে কম দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

১৫ টাকা কেজি দরে জন প্রতি ৩০ কেজি করে চাল দেয়ার কথা থাকলেও এখানে দেওয়া হচ্ছে ২৬ থেকে ২৭ কেজি করে।

এ ছাড়াও নির্ধারিত সময়ে দোকান না খোলাসহ নানা অভিযোগ রয়েছে ডিলারের বিরুদ্ধে।

উপজেলার সেলবরষ ইউনিয়নের বাদশাগঞ্জ বাজারের ডিলার মো. সাকিবুর রহমানের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ উঠেছে।

নিয়ম অনুযায়ী চাল বিতরণের সময় সরকারি প্রতিনিধি হিসেবে একজন ট্যাগ অফিসারের উপস্থিতি বাধ্যতামূলক হলেও এখানে সেই নিয়মও মানা হচ্ছে না। ফলে দীর্ঘদিন ধরেই এখানকার উপকারভোগী লোকজন সঠিক ওজনে চাল পাওয়া থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

এতে করে সুবিধাভোগীদের মাঝে চরম ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে।

উপজেলা খাদ্য অফিস সূত্রে জানা গেছে,  নিম্ন আয়ের লোকজনদের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষে সরকারিভাবে খাদ্য বান্ধব কর্মসূচির আওতায় এ উপজেলায় ৬টি ইউনিয়নে ১২ জন ডিলার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এর বিপরীতে ৩ হাজার ৪৭৭ জন উপকারভোগীর প্রত্যেককেই ১৫ টাকা কেজি দরে ৩০ কেজি করে চাল দেওয়ার কথা।

এরমধ্যে উপজেলার সেলবরষ ইউনিয়নের খাদ্য বান্ধব কর্মসুচির ডিলার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে ইউনিয়ন যুবদলের জৈষ্ঠ সহ সভাপতি সাকিবুর রহমানকে। তার অধীনে ৩৯৮ জন  উপকারভোগী কার্ডধারী রয়েছেন। সরকারিভাবে নিয়োগকৃত একজন তদারকি কর্মকর্তার (ট্যাগ অফিসার) উপস্থিতিতে ডিজিটাল মিটারে পরিমাপ করে তাদের প্রত্যেককেই ১৫ টাকা কেজিতে ৩০ কেজি করে চাল দেওয়ার কথা থাকলেও ডিলার সাকিবুর রহমান ট্যাগ অফিসারের অনুপস্থিতিতে বালতি দিয়ে পরিমাপ করে ৩০ কেজি স্থলে ২৬-২৭ কেজি করে চাল দিচ্ছেন বলে ভুক্তভোগীদের অভিযোগ।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ডিলার ৫০ কেজির চালের বস্তা খুলে দাঁড়িপাল্লা বা ওজন মাপার যন্ত্র দিয়ে মেপে আমাদেরকে চাল না দিয়ে তিনি বালতি দিয়ে  চাল মেপে দেন। এভাবে চাল দেওয়ার সময় ডিলারের কর্মচারীরা প্রতিজনকে অন্তত আড়াই থেকে ৩ কেজি করে চাল কম দিচ্ছেন।

খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির  উপকারভোগী হাসেন মিয়া জানান, অন্যবার ডিলার তাদের ৩০ কেজি ওজনের প্রতি বস্তা চাল ৪৫০ টাকায় দিতেন। এবার বড় বস্তায় চাল থাকায় ডিলার প্রতিটি বস্তা খুলে বালতি দিয়ে চাল মেপে দিয়েছেন। পরে অন্য একটি দোকানে গিয়ে মিটারে মেপে দেখি আমাকে মাত্র ২৭ কেজি চাল দেওয়া হয়েছে। শুধু আমাকেই নয় সবাইকেই একইভাবে কম দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি জানান।

এসব অনিয়মের বিষয়ে জানতে ইউনিয়ন যুবদলের জৈষ্ঠ্য সহ সভাপতি  ডিলার মো, সাকিবুর রহমান  অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমি ডিজিটাল মিটারে পরিমাপ করে প্রত্যেক কার্ডধারীকে ৩০ কেজি করে চাল দিয়েছি। পাশাপাশি সকল উপকারভোগীকে ভালোভাবে মেপে চাল বুঝে নেওয়ার কথা বারবারই বলে আসছি। কিন্তু চাল মেপে বুঝে নিয়ে কয়েক ঘন্টা পর এসে যদি বলে ওজনে কম হয়েছে। তা মেনে নেওয়া যায়না। তিনি আরও বরেন, মূলত একটি চক্র আমাকে রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করতেই আমার বিরুদ্ধে এমন অপ-প্রচার চালাচ্ছে।

এ খাদ্য বান্ধব কর্মসূচি তদারকি কর্মকর্তা (ট্যাগ অফিসার) উপজেলার বৌলাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হারুন অর রশিদ বলেন, চাল বিতরণে দিন আমাকে থাকার জন্য ডিলার আমার সাথে যোগাযোগ করেন। কিন্তু আমি নিজের কর্মস্থল নিয়ে ব্যস্ত থাকায় সেখানে বেশি সময় দিতে পারিনা। তবে বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখবো।

উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তামো.শফিকুল ইসলাম বলেন, খাদ্য বান্ধব কর্মসুচির চাল ওজনে কম দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। তবে এ বিষয়েড় আমার কাছে কোনো উপকারভোগী অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ডিলারের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জনি রায় বলেন,  খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ১৫ টাকা কেজি দরের চালে কোনো অনিয়ম সহ্য করা হবে না। তবে এ বিষয়ে খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলেও জানান তিনি।

৪ আগস্ট ২০২৬
ধর্মপাশায় ১৫ টাকা কেজির চাল ওজনে কম দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে