পাইকগাছায় প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে বিএনপি নেতৃবৃন্দ’কে জড়িয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি সহ জমি দখল চেষ্টার অভিযোগ
পাইকগাছা (খুলনা)প্রতিনিধি
পাইকগাছায় জায়গা জমির বিরোধ কে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষ সুকেশ অনিমেষ গংদের বিরুদ্ধে গড়ইখালী ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি ও উপজেলা ওলামা দলের সদস্য সচিব’কে জড়িয়ে মানববন্ধনের নামে বিভ্রান্তি সৃষ্টি সহ জমি দখল চেষ্টার অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী অধীর মন্ডল ও তার পরিবার । এ নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে বিরোধ চরম আকার ধারণ করেছে। সৃষ্ট বিরোধ নিষ্পত্তি না হলে ধান রোপণের সময় বড় ধরণের সংঘাত ও সংঘর্ষের আশঙ্কা রয়েছে বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
বিষয়টি নিয়ে গত ২৮ জুলাই এলাকার রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে থানায় দু’পক্ষের মধ্যে বসাবসি হয়। মিমাংসা’র জন্য শুক্রবার পর্যন্ত সুকেশ-অনিমেশ মন্ডল সময় নেয়। জমির মালিকের অভিযোগ, এ ঘটনা ভিন্ন খাতে নিতে সুকেশ অনিমেষ গংরা অন্যের প্ররোচনায় ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি মিজান জোয়াদ্দার ও নালিশি জমির বর্গাচাষি উপজেলা উলামা দলের সদস্য সচিব শফিকুল ইসলাম এবং লিটন গাজী(দুখী) সহ আমার বিরুদ্ধে ভাংচুরসহ জমি দখল চেষ্টার কথিত বানোয়াট অভিযোগে মানববন্ধন করে এলাকায় বিভ্রান্তি সৃষ্টি এবং দলীয় নেতৃবৃন্দের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছে।
জানাগেছে, গত ১৫-২-২০০০ ও একই বছরের ৫ এপ্রিল সোলাদানার নুনিয়াপাড়ার বাসিন্দা সাবেক বিএনপি নেতা ও সাবেক ইউপি সদস্য অধীর মন্ডল তার পরিবারের সদস্যদের নামে কোবলা দলিল মূলে কুমখালীতে শ্বশুর সম্পর্কীয় সুরেন্দ্র নাথ মন্ডল ও তার ছেলেদের কাছ থেকে ২ একর ৮৯ শতক জমি ক্রয় করেন। যার খতিয়ান নং ১১৯৪ ও ১২৯৮। দাগ নং ৬৪২,৬৪৬ ও ৬৭৯। বর্তমান জরিপে ক্রেতা ও তার ওয়ারেশদের নামে রেকর্ড সম্পন্ন হয়েছে এবং অনলাইনে খাজনাও পরিশোধ আছে বলে জমির মালিক অধীর মন্ডল জানান। তিনি বলেন ক’বছর ধরে শ্বশুরদের ওয়ারেশ বল্লভ মন্ডলের ছেলে সুকেশ-অনিমেশ যোগেশ মন্ডল আমার রেকর্ডিয় প্লটের জমি জোর করে দখল চেষ্টা করছেন। তিনি আরো বলেন আমার বাড়ি দূরে হওয়ার কারণে জায়গা জমি দেখভাল এবং চাষাবাদের জন্য উপজেলা ওলামা দলের সদস্য সচিব স্থানীয় শফিকুল ইসলাম , লিটন গাজী ( দুখী) ও শাহ আলম সরদার দু’বছরের জন্য আমার সমস্ত জমি বর্গা নিয়েছেন। এ বছরও তারা হাল চাষ করে আমনের বীজতলা তৈরি করেছেন।
তিনি অভিযোগ করেন, অনিমেশ থানায় অভিযোগ করে মিমাংসার জন্য সময় নিয়ে উল্টো জমিতে চাষ করে দখলের পাঁয়তারা করছেন।
এ বিষয়ে বর্গাচাষি লিটন গাজী ও শফিকুল জানান, আমরা চাষ করে বীজতলা করেছি। তাদের অভিযোগ, এটা নিয়ে বিএনপি-যুবদল নামধারী ইমরান সরদার, জাফর মল্লিক ও রানা মোড়ল মিজানুর রহমান গংদের ইন্ধনে ২ আগস্ট অনিমেশ গংরা বহিরাগত লোক জড়ো করে ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি মিজান জোয়াদ্দার ও আমাদের বিরুদ্ধে মানববন্ধন করে দোষারোপ করেছেন।
এ বিষয়ে গড়ইখালী ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি মিজান জোয়াদ্দার বলেন,সর্বশেষ থানায় বসাবসি হলে মিমাংসার জন্য অনিমেশ পক্ষরা সময় নেয়। বসাবসিতে আমরা বহু মানুষ ছিলাম, কিন্তু পরবর্তীতে আমার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের মদদে তারা আমার বিরুদ্ধে মানববন্ধনের নামে এলাকায় মিথ্যাচার করছেন।
এ বিষয়ে তদন্তকারি পুলিশ কর্মকর্তা এসআই আজিজ রহমান বলেন, বসাবসিতে এলাকার বিশিষ্ট জনদের উপস্থিতিতে মিমাংসা করতে উভয়ে সম্মত হয়ে সময় নেয় । যেহেতু, জায়গা-জমির বিষয় তাই সমাধান না হলে উভয়কে আদালতে যাবার পরামর্শ দিয়ে তিনি দু’পক্ষকে শান্তিপুর্ণ অবস্থানে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন । উল্লেখ্য, এ জমির বিরোধে সুকেশ-অনিমেশ পক্ষ ২ আগস্ট বিকেলে কুমখালীর বৈদ্যর কোনায় মানববন্ধন করেন।
