-
ধর্মপাশায় এমপিওভুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে স্ট্যাম্প ভেন্ডারের ব্যবসা করার অভিযোগ উঠেছে
চয়ন চৌধুরী, ধর্মপাশা থেকেঃ
সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার বাদশাগঞ্জ পাবলিক বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে শিক্ষকতার পাশাপাশি স্ট্যাম্প ভেন্ডারের ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী এমপিওভুক্ত কোনো শিক্ষক-কর্মচারী একই সঙ্গে একাধিক কোনো পদে/চাকরিতে বা আর্থিক লাভজনক কোনো পদে নিয়োজিত থাকতে পারবে না। কিন্তু প্রধান শিক্ষক নজরুল ইসলাম সরকারি এ নীতিমালাকে কোনো রকম তোয়াক্কা না করেই দীর্ঘ প্রায় ১৫-১৬ বছর যাবত স্ট্যাম্প ভেন্ডার হিসেবে নিজেই লাইসেন্সপ্রাপ্ত হয়ে তিনি শিক্ষকতার পাশাপাশি বাদশাগঞ্জ সাবরেজিস্টার কার্যালয়ে তার নিয়োগকৃত লোক দিয়ে স্ট্যাম্প ভেন্ডারের ব্যবসাও পরিচালনা করে আসছেন। যার লাইসেন্স নাম্বার-৮২।
আর তার এ বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর থেকেই শিক্ষক সমাজ থেকে শুরু করে বিভিন্ন মহলে সমালোচনার ঝড় বইতে শুরু করে।
স্থানীয় এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, বাদশাগঞ্জ পাবলিক বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নজরুল ইসলাম উপজেলার সেলবরষ ইউনিয়নের মাটিকাটা নতুনবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা। পাশাপাশি তিনি উপজেলার সেলবরষ ইউনিয়নের ৪ নাম্বার ওয়ার্ড আওয়ামীলীগ কমিটির ৩৫ নাম্বার সদস্য।
তিনি বিগত আওয়ামীলীগ সরকারের বহুল আলোচিত স্থানীয় সাবেক সংসদ সদস্য মোয়াজ্জেম হোসেন রতন ও পুলিশের সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি মো. আব্দুল বাতেনের ঘনিষ্ঠ সহচর হিসেবে এলাকায় পরিচিত ছিলেন। এরই সুবাদে তখন তিনি প্রভাব কাটিয়ে নিজের নামে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ট্রেজারি শাখা থেকে নিয়ম বহির্ভুতভাবে স্ট্যাম্প ভেন্ডারের লাইসেন্সটি ভাগিয়ে নেন। যার লাইসেন্স নং-৮২।
তখন থেকেই তিনি সরকারি নীতিমালার তোয়াক্কা না করেই অবৈধভাবে নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প বিক্রি করে আসছেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের একাধিক শিক্ষক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এমপিওভুক্ত একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান হয়ে কি করে তিনি নিজের নামে লাইসেন্স করে আরেকটি লাভজনক প্রতিষ্ঠানের সাথে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা করে আসছেন। বিষয়টি জেনে আমরা হতবাক। তবে এ বিষয়ে সরকারি বিধিমালা অনুযায়ী তদন্ত করে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তাঁরা।
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক নজরুল ইসলাম বলেন, ওই লাইসেন্সটি প্রথমে আমার বাবার নামে ছিল। পরে বাবা মারা যাওয়ার পর সেটি আমার নিজের নামে করে অন্য জনকে দিয়ে ব্যবসা করে আসছি। তবে এখন যেহেতু এ বিষয়ে আইন করা হয়েছে, আমি সেটি এখন হস্তান্তর করে দেব।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জনি রায় বলেন, শিক্ষক নজরুল ইসলাম তার নিজের নামে স্ট্যাম্প ভেন্ডারের লাইসেন্স নিয়ে ব্যবসা করার বিষয়টি আমার নজরে এসেছে। তার বিরুদ্ধে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
জেলা শিক্ষা অফিসার মো: জুলফিকার হোসেন বলেন, এমপিওভুক্ত কোন শিক্ষক কখনোও স্ট্যাম্প ভেন্ডারের লাইসেন্স করতে পারে না। অভিযোগটি তদন্ত করে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
