ডুমুরিয়ায় টানা বর্ষণে কাঁঠালতলা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মাঠ জলমগ্ন: চরম ভোগান্তিতে পরীক্ষার্থীরা
ডুমুরিয়া (খুলনা) প্রতিনিধি:
টানা ভারী বর্ষণে খুলনা জেলার ডুমুরিয়া উপজেলার ঐতিহ্যবাহী কাঁঠালতলা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের বিস্তীর্ণ মাঠ পানিতে তলিয়ে গেছে। দীর্ঘস্থায়ী এই জলাবদ্ধতার কারণে বিদ্যালয়ের খেলাধুলা, শরীরচর্চা ও বিভিন্ন সহশিক্ষা কার্যক্রম বন্ধের পাশাপাশি বর্তমানে চলমান অর্ধবার্ষিক পরীক্ষা দিতে এসে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন পরীক্ষার্থীরা।
পরীক্ষা চলাকালীন মাঠের এই দুরাবস্থা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বেশ কয়েকজন পরীক্ষার্থী জানায়, এখন আমাদের গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা চলছে। কিন্তু স্কুলের বারান্দা পর্যন্ত পুরো মাঠ পানিতে ডুবে থাকায় প্যান্ট-জামা ভিজিয়ে নোংরা পানি মাড়িয়ে পরীক্ষার হলে ঢুকতে হচ্ছে। ভেজা পায়ে ৩ ঘণ্টা পরীক্ষা দেওয়া যে কত কষ্টের, তা বোঝানো যাবে না। অনেকের জুতো-মোজা ভিজে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে, ফলে ভেজা ও ঠান্ডা শরীর নিয়ে পরীক্ষা দিতে হচ্ছে, যা আমাদের পড়াশোনায় মনোযোগ নষ্ট করছে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সম আঃ রাজ্জাক এই সংকট নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, মাঠে পানি জমে থাকায় আমরা এসেম্বলি পর্যন্ত করতে পারছি না। এখন পরীক্ষা চলায় শিক্ষার্থীরা টিফিনের সময় বা পরীক্ষার আগে-পরে একটু যে বাইরে দাঁড়াবে, তারও কোনো উপায় নেই, ক্লাসরুমেই অবরুদ্ধ থাকছে। পানি নিষ্কাশনের কোনো ড্রেন না থাকায় পানি নামার কোনো পথ নেই। আমরা দ্রুত মাঠটি বালু দিয়ে ভরাট করা এবং একটি স্থায়ী ড্রেনেজ ব্যবস্থার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
এদিকে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে অভিভাবক সদস্যরা জানান, সামান্য বৃষ্টি হলেই মাঠটি পুকুরে পরিণত হয়। নোংরা ও দূষিত পানি মাড়িয়ে ছেলেমেয়েদের পরীক্ষা দিতে যেতে হচ্ছে। এতে অনেক শিক্ষার্থী চর্মরোগসহ বিভিন্ন পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হতে পারে। মাঠের এই নোংরা পরিবেশের কারণে তারা সন্তানদের বিদ্যালয়ে পাঠাতেও ভয় পাচ্ছেন।
সচেতন মহল ও স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, কাঁঠালতলা মাধ্যমিক বিদ্যালয়টি এ অঞ্চলের অন্যতম প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। অথচ দীর্ঘদিন ধরে স্থায়ী পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার অভাবে প্রতি বছরই এই একই সমস্যার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্বার্থে এবং একটি নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত পরীক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে—এমনটাই প্রত্যাশা করছে এলাকাবাসী।
