সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রে ইতিহাসের নতুন এক অধ্যায়ে প্রবেশ করেছে। প্রথমবারের মতো এখানে সফলভাবে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন একটি হাত পুনঃসংযোগ করা হয়েছে, যা হাসপাতালের চিকিৎসা ইতিহাসে এক অনন্য মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
গত মঙ্গলবার সরিষা মাড়াই মেশিনে দুর্ঘটনার শিকার হয়ে এক রোগীর হাত সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। গুরুতর এ অবস্থায় রোগীকে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে প্রায় ৬ ঘণ্টাব্যাপী জটিল অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সফলভাবে হাতটি পুনঃসংযোগ করেন চিকিৎসকরা।
অর্থোপেডিক বিভাগের ডা. প্রবীর কুমার দাস ও ডা. বি. কে. মন্ডলের নেতৃত্বে গঠিত মেডিকেল টিম দক্ষতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে এ অপারেশন সম্পন্ন করেন। অস্ত্রোপচারের পর রোগী বর্তমানে সুস্থ রয়েছেন এবং হাত নাড়াতে সক্ষম হয়েছেন—যা চিকিৎসা বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে একটি বড় সাফল্য।
সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. কুদরত-ই-খোদা জানান, হাসপাতালটি উন্নত ও মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা প্রদানে নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছে। তিনি বলেন, দ্বিখণ্ডিত হাতটি দীর্ঘ ছয় ঘণ্টার অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সফলভাবে পুনঃস্থাপন করা হয়েছে, যা এ হাসপাতালের জন্য প্রথম এবং ঐতিহাসিক অর্জন। ভবিষ্যতেও জনকল্যাণে তিনি নিজেকে সম্পূর্ণভাবে নিবেদিত রেখে উন্নত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার আশ্বাস দেন।
এ সফল অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা আরও একধাপ এগিয়ে গেল। এতে সাতক্ষীরাবাসীর মধ্যে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে এবং হাসপাতালের প্রতি মানুষের আস্থা আরও দৃঢ় হয়েছে। সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের তৃতীয় বর্ষের মেধাবী শিক্ষার্থী শেখ মো. আমিনুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
