ধর্মপাশায় নীতিমালা উপেক্ষা করে ইজারাকৃত জলমহালে মাছ ধরছেন ইজারাদার

Date:

Share:

ধর্মপাশায় নীতিমালা উপেক্ষা করে ইজারাকৃত জলমহালে মাছ ধরছেন ইজারাদার

 

চয়ন চৌধুরী, ধর্মপাশা থেকেঃ

সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার কালিজানা বিল গ্রুপ নামক সরকারিভাবে ইজারাকৃত জলমহাল থেকে নীতিমালা উপেক্ষা করে সাব-লিজ ও দেদারসে মাছ ধরছেন বলে ওই জলমহালের ইজারাদারের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে।

জলমহাল ব্যবস্থাপনা নীতিমালা অনুযায়ী, লিজ গ্রহীতা কোনো মৎস্যজীবী সংগঠন বা সমিতির নামে ইজারাপ্রাপ্ত হওয়া কোনো জলমহাল সাব-লিজ অথবা অন্য কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে হস্তান্তর করতে পারবে না। অন্য কোনো উপায়ে তা ব্যবহার করতেও পারবে না। এমনটি করা হলে জেলা প্রশাসক উক্ত জলমহালের লিজ বাতিলসহ জমাকৃত লিজের টাকা সরকারের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করার বিধান রয়েছে।
এ ছাড়াও জেলা প্রশাসনের কাছ থেকে উন্নয়ন প্রকল্প দেখিয়ে জলমহালের চার পাশে বনায়ন করে মৎস্য সম্পদ রক্ষণাবেক্ষণ করার শর্তে উক্ত জলমহালটি স্থানীয় কালিজানা গ্রুপ সমবায় সমিতি লিমিটেডের সভাপতি শামসুল হুদা বাবু ইজারাপ্রাপ্ত হন।
শুধু তাই নয় নীতীমালা অনুযায়ী ইজারাপ্রাপ্ত সমিতির পক্ষ থেকে ওই জলমহালটি ইজারা পাওয়ার পর সেখানে মাছ আহরণ করতে পারবেন না। পাশাপাশি জলমহালটি রক্ষণাবেক্ষণ করে এক বছর অন্তর-অন্তর সেখান থেকে মাছ আহরণ করার বিধান রয়েছে। কিন্তু উপজেলার কালিজানা বিল গ্রুপ নামক জলমহালের ইজারাদার উপজেলার কালিজানা মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি লিমিটেডের সভাপতি শামসুল হুদা বাবু ওই জলমহালটি ইজারা পাওয়ার পর পরই জলমহালটির একাধিক স্থান সরকারি নীতিমালার কোনো তোয়াক্কা না করেই স্থানীয় বিভিন্ন মৎস্যজীবীর নিকট সাব-লিজ দিয়ে জলমহালটি থেকে প্রতিনিয়ত মাছ ধরে যাচ্ছেন।
এরমধ্যে জলমহালটির কালিজনার মুল অংশটি তারা মিয়া নামে এক ব্যক্তির কাছে ৭ লাখ টাকায়, শইলচাপড়া নামক অংশটি সেলিম মিয়ার কাছে ২৮ লাখ টাকায় এবং কুদালিয়া নামক অংশটি মুগা মিয়ার কাছে ৩ লাখ ৫ হাজার টাকায় সাব-লিজে বিক্রি করে দেন মূল ইজারাদার শামসুল হুদা বাবু।
তারা জলমহালটির বিভিন্ন অংশ সাব-লিজ নিয়ে সেখানে দিন-রাত বিভিন্ন জাল দিয়ে মাছ ধরে যাচ্ছেন।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার সেলবরষ ইউনিয়নের মাটিকাটা বীর উত্তর এলাকায় ১৪টি মৌজায় কালিজানা বিল গ্রুপের ২৮১.৫৯ একর বিল-নালা-ডোবা-খাল নিয়ে এ জলমহালটির অবস্থান। সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসন থেকে ওই জলমহালটি উন্নয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে গত ১৪৩১ বাংলা সাল হইতে ১৪৩৩ বাংলা সাল পর্যন্ত ৩ বছর মেয়াদে বাৎসরিক ৫০ লাখ টাকা খাজনায় কালিজানা মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি লিমিটেডের সভাপতি শামসুল হুদা বাবু ইজারা প্রাপ্ত হন।
কালিজানা জলমহালটি শইলচাপড়া অংশের সাব-ইজারাদার জিটু মিয়া ও সেলিম মিয়া বলেন, কালিজানা বিল গ্রুপ জলমহালের মূল ইজারাদার শামসুল হুদা বাবুর কাছ থেকে আমরা শইলচাপড়ার অংশটি ২৮ লাখ টাকা দিয়ে সাব লিজ নিয়েছি এবং সেখানে আমারা বেড় জাল, কুডি জালসহ বিভিন্ন ধরনের জাল দিয়ে দেশীয় বিভিন্ন জাতের মাছ আহরণ করে আসছি।

উপজেলার কালিজানা বিল গ্রুপ জলমহালের মূল ইজারাদার শামসুল হুদা বাবুর ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও ফোনটি বন্ধ থাকায় এ বিষয়ে তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জনি রায় বলেন, জলমহাল নীতিমালা ভঙ্গ করে যদি কেউ জলমহাল থেকে মাছ ধরে বা জলমহালটি সাব-লিজের মাধ্যমে বিক্রি করার সত্যতা পাওয়া গেলে ওই জলমহালের ইজারা বাতিলসহ ইজারাদারের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ধর্মপাশায় নীতিমালা উপেক্ষা করে ইজারাকৃত জলমহালে মাছ ধরছেন ইজারাদার