ব্যাংকের সাইনবোর্ড টাঙিয়ে কবরস্থান-মাদ্রাসার জমি দখলের চেষ্টা, সামাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ

Date:

Share:

ব্যাংকের সাইনবোর্ড টাঙিয়ে কবরস্থান-মাদ্রাসার জমি দখলের চেষ্টা, সামাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিনিধি :
সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলার দক্ষিণ পারুলিয়ায় আদালতের নিষেধাজ্ঞা ও ১৪৫ ধারার নির্দেশনা উপেক্ষা করে বিরোধপূর্ণ জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে আব্দুস সামাদ ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের অভিযোগ, গোরস্থান, দরগা ও মাদ্রাসাসংলগ্ন ওই জমিতে কোনো ব্যাংক কর্মকর্তা ছাড়াই রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বেসিক ব্যাংকের সাইনবোর্ড টাঙিয়ে এবং টিনের ঘর বসিয়ে দখলের চেষ্টা করা হয়েছে।

ব্যাংক কর্তৃপক্ষের দাবি—সাইনবোর্ড তাদের নয়। বিষয়টি জানার পর সেটি সরিয়ে নিতে আব্দুস সামাদকে একাধিকবার বলা হলেও তিনি তা সরাননি বলে জানিয়েছেন ব্যাংকের কর্মকর্তারা।

মামলার নথি অনুযায়ী, দেবহাটা থানার পারুলিয়া মৌজার আরএস ৩৫৭৫৩ ও ৩৫৭৫৬ এবং এসএ ১১২০৩ নম্বর দাগের সম্পত্তি নিয়ে গোলাম মহিউদ্দিন রনি ও আব্দুস সামাদের মধ্যে বিরোধ চলছে। এ নিয়ে আদালতে মামলা চলমান।

স্থানীয়দের ভাষ্য, আদালতের নিষেধাজ্ঞা ও ১৪৫ ধারার বিষয়টি জানানো এবং নোটিশ দেওয়ার পরও ওই জমিতে দখল প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করা হচ্ছে। এর আগে সেখানে দোকান বসানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। সম্প্রতি টিনের ঘর স্থাপন করে তার সঙ্গে বেসিক ব্যাংকের সাইনবোর্ড টাঙানোর ঘটনায় নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।

বেসিক ব্যাংক সাতক্ষীরা শাখার সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার মৃত্যুঞ্জয় কুমার গায়েন বলেন, “ব্যাংকের পক্ষ থেকে ওই সাইনবোর্ড লাগানো হয়নি। বিষয়টি জানার পর আব্দুস সামাদকে একাধিকবার সাইনবোর্ডটি সরিয়ে নিতে বলা হয়েছে। কিন্তু তিনি তা সরিয়ে নেননি।”

স্থানীয় বাসিন্দারা দাবি করছেন, বিরোধপূর্ণ জমিটি দীর্ঘদিন ধরে গোলাম মহিউদ্দিন রনির পরিবারের পৈতৃক সম্পত্তি হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। জমিটির সঙ্গে স্থানীয় ধর্মীয় ও সামাজিক ঐতিহ্যও জড়িত।

৬০ বছর বয়সী স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল ওহাব গাজী বলেন, “জন্মের পর থেকেই দেখে আসছি জায়গাটি গোলাম নবী সাহেবদের। এখানে প্রায় ১০০ বছরের পুরোনো তেঁতুলগাছ, তাদের পৈতৃক কবরস্থান, একটি ঐতিহ্যবাহী দরগা ও মাদ্রাসা রয়েছে। গত ৩০-৩৫ বছর ধরে তাদের কাছ থেকে জমি ও ঘের লিজ নিয়ে আমি দেখাশোনা করছি। হঠাৎ সামাদ এসে টিনের ঘর বসিয়ে ব্যাংকের সাইনবোর্ড টাঙিয়েছেন।”

৭৫ বছর বয়সী স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল মজিদ বলেন, “১৯৬৫ সাল থেকে এ এলাকায় বসবাস করছি। সামাদ বা তার পরিবারকে কখনো এই কাছারি বাড়ি ও পাশের খামারবাড়ি ভোগদখল করতে দেখিনি। এখন তিনি ১১২০৩ দাগের জমি দখলের চেষ্টা করছেন বলে আমরা দেখছি।”

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে আব্দুস সামাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

সখিপুর এলাকার প্রবীণ বাসিন্দা মাওলা বকস গাজী (৭৩) বলেন, “সামাদের বিরুদ্ধে এলাকায় ভূমি দখলসহ বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে। ধর্মীয় ও সামাজিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই সম্পত্তি রক্ষায় প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।”

অন্যদিকে, বিরোধপূর্ণ জমিতে আদালতের নির্দেশনা অমান্য করে কোনো পক্ষ কার্যক্রম চালাচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখার কথা জানিয়েছে পুলিশ।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও দেবহাটা থানার এএসআই আকিজুর রহমান বলেন, “আদালতের নোটিশ পাওয়ার পর আমরা সরাসরি ঘটনাস্থলে গিয়ে উভয় পক্ষকে নিষেধ করে এসেছি। আদালতের নির্দেশ অমান্য করে কোনো পক্ষ কোনো কার্যক্রম চালিয়ে থাকলে তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

অভিযোগের বিষয়ে আব্দুস সামাদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মুঠোফোন নম্বরটি বন্ধ থাকায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

স্থানীয়দের দাবি, আদালতে মামলা চলমান থাকা অবস্থায় বিরোধপূর্ণ জমিতে নতুন করে কোনো স্থাপনা নির্মাণ বা দখলের চেষ্টা বন্ধে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন। পাশাপাশি ব্যাংকের নামে টাঙানো সাইনবোর্ডটি কে বা কারা সেখানে স্থাপন করেছে, সেটিও তদন্ত করে দেখার দাবি জানিয়েছেন তারা।

১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ব্যাংকের সাইনবোর্ড টাঙিয়ে কবরস্থান-মাদ্রাসার জমি দখলের চেষ্টা, সামাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ