বারহাট্টায় ইমাম ও মসজিদ নিয়ে কটূক্তি, গ্রাম্য সালিশে দুই ব্যক্তিকে মাথা ন্যাড়া

Date:

Share:

  1. বারহাট্টায় ইমাম ও মসজিদ নিয়ে কটূক্তি, গ্রাম্য সালিশে দুই ব্যক্তিকে মাথা ন্যাড়া

চয়ন চৌধুরী, বারহাট্টা থেকেঃ

নেত্রকোনার বারহাট্টায় ইমামের বেতন ও মসজিদের বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রমের বিষয়কে নিয়ে কটূক্তি করার অভিযোগে গ্রাম্য সালিশে দুই ব্যক্তিকে মাথা ন্যাড়া করে নির্যাতন করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়।

শুক্রবার (৩১ জুলাই) দুপুরে ‘Jon Khan’ নামে স্থানীয় যুবকের ব্যক্তিগত প্রোফাইল থেকে প্রচারিত ১ মিনিটের ভাইরাল এই ভিডিওতে দেখা যায় গ্রাম্য সালিশে দেওয়া শাস্তি কার্যকর করছে যুবকেরা।
এরআগে বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) সকালে উপজেলার সাহতা ইউনিয়নের হেলুচিয়া এলাকায় সালিশের মাধ্যমে ওই দুই ব্যক্তিকে মাথা ন্যাড়া করার ঘটনাটি ঘটে।
মাথা ন্যাড়া করে দেওয়া ওই দুই ব্যক্তি হলেন— উপজেলার মধুপুর গ্রামের মুমিন খান (৫০) এবং হেলুচিয়া গ্রামের সনাতন ধর্মাবলম্বী যুবক উজ্জল (৩২)।

এদিকে, ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, স্থানীয় কয়েকজনের উপস্থিতিতে এক ব্যক্তি পর্যায়ক্রমে মুমিন খান ও উজ্জলের মাথা ন্যাড়া করে দিচ্ছেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, স্থানীয় মাতব্বরদের সিদ্ধান্তের ভিত্তিতেই এ শাস্তি কার্যকর করা হয়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, গত সোমবার হেলুচিয়া বাজারের মসজিদের ইমামের বেতন বৃদ্ধি নিয়ে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভা শেষে বাজারের দোকানে মসজিদের জন্য অনুদান সংগ্রহের প্রসঙ্গ উঠলে মুমিন খান মসজিদ সম্পর্কে আপত্তিকর মন্তব্য করেন। এ সময় উজ্জলও সেখানে উপস্থিত ছিলেন। পরে বিষয়টি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে বাজার ও মসজিদ কমিটির কাছে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বিচার দাবি করেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় জনি খান নামে এক কলেজছাত্র জানান, গ্রাম্য সালিশে অভিযুক্তদের নিজেদের বক্তব্যের ব্যাখ্যাসহ প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে কয়েকদিন সময় দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তারা প্রকাশ্যে ক্ষমা না চাওয়ায় এলাকাবাসী তাদের মাথা ন্যাড়া করে দেয়।
অন্যদিকে, ভুক্তভোগী মুমিন খান অভিযোগ করে বলেন, গত সোমবারে হেলুচিয়া বাজারের একটি চায়ের দোকানে কয়েকজন মিলে বসে চা পান করার সময় মসজিদের ইমামের বেতন বৃদ্ধির বিষয়ে আলোচনা হচ্ছিল। এক ব্যক্তি মন্তব্য করেন যে, ‘হুজুরদের লোভ বেড়ে গেছে’। এর জবাবে তিনিও সহমত প্রকাশ করেছিলেন। পরে ওই কথাকে বিকৃতভাবে প্রচার করে তাকে অপমানজনকভাবে মাথা ন্যাড়া করে দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

মুমিন আরও বলেন, আমি বিচার চাই। আমি থানায় অভিযোগ করব। আমার বিশ্বাস, স্থানীয় একটি মাদরাসার শিক্ষক আলী আহমদের ষড়যন্ত্রের শিকার আমরা।

তিনি আরও দাবি করেন, তার পাশে বসে থাকা উজ্জল কোনো মন্তব্যই করেননি। তাকেও একইভাবে অপমান করা হয়েছে।
এ অভিযোগের বিষয়ে গ্রাম্য সালিশে উপস্থিত স্থানীয় মাদরাসার শিক্ষক ও মোহতামিম আলী আহমদ বলেন, গ্রামের একজন ব্যক্তি মসজিদ সম্পর্কে অবমাননাকর মন্তব্য করেছিলেন বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ ছিল। অভিযোগের ভিত্তিতে গ্রাম্য সালিশ বসে এবং সেখানে বিষয়টি নিয়ে বিচার করা হয় ও বিচারের এক পর্যায়ে স্থানীয়দের চাহিদা অনুসারে তাদের মাথা ন্যাড়া করা হয়।

উজ্জলের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এলাকাবাসীর অভিযোগ ছিল, সে ওই বক্তব্যের সঙ্গে সহমত প্রকাশ করেছিল।

এ বিষয়ে বারহাট্টা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) চম্পক দাম বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি পুলিশের নজরে এসেছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এছাড়া এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি।

ওসি চম্পক দাম আরও জানান, ঘটনার প্রকৃত সত্যতা যাচাই করা হচ্ছে। লিখিত অভিযোগ পেলে আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।###

 

১ আগস্ট ২০২৬
বারহাট্টায় ইমাম ও মসজিদ নিয়ে কটূক্তি, গ্রাম্য সালিশে দুই ব্যক্তিকে মাথা ন্যাড়া