কেশবপুরে দু’দিনে চার মাদককারবারি
এবং দুই কাঠ চোর গ্রেফতার
পরেশ দেবনাথ, বিশেষ প্রতিনিধি
যশোরের কেশবপুরে গত দু’দিনে মাদকবিরোধী ও বিশেষ অভিযান চালিয়ে ২২৩ পিছ ইয়াবা ও এক বোতল বিদেশি মদসহ চার মাদককারবারি এবং দুই কাঠ চোরকে গ্রেফতার করেছে থানা পুলিশ। গত বুধবার ও বৃহস্পতিবার (২৯-৩০ জুলাই-২৬) উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। ইয়াবা ও মদ সহ গ্রেফতারের ঘটনায় তাদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ত্রণ আইনে পৃথক পৃথক মামলা হয়েছে। এছাড়া কাঠ চুরি করে পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে থানায় একটি চুরির মামলা হয়েছে।
থানা সূত্রে জানা গেছে, গত ২৯ জুলাই দুপুরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কেশবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ রোকসানা খাতুন এর দিক-নির্দেশনায় উপ-পুলিশ পরিদর্শক মোকলেচুর রহমান, সহকারী উপ-পুলিশ পরিদর্শক ইসরাফিল হোসেন সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে পৌর শহরের গাজীর মোড় এলাকা থেকে শাহীন (৩০) নামে এক মাদককারবারিকে ২০০ পিচ ইয়াবাসহ হাতেনাতে গ্রেফতার করে। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে থানায় একটি মাদকদ্রব্য নিয়ত্রণ আইনে মামলা হয়েছে। যার মামলা নং-২০।
অপরদিকে গত ২৯ জুলাই রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চিংড়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপ-পুলিশ পরিদর্শক শামীম হোসাইন নেতৃত্বে সহকারী উপ-পুলিশ পরিদর্শক কামরুজ্জামান, নজরুল ইসলাম সঙ্গীয় পুলিশ ফোর্সসহ কেশবপুর উপজেলার ১০নং সাতবাড়িয়া ইউনিয়নের বেগমপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে কেশবপুর পৌর শহরের ভোগতি গ্রামের মৃত বাবর আলী মোড়লের ছেলে আব্দুস সালাম মোড়ল (৩৬) ও একই গ্রামের শওকত আলী মীরের ছেলে রাহুল ইসলাম (২৩) কে ২৩ পিচ ইয়াবাসহ হাতেনাতে গ্রেফতার করে এবং মাদকদ্রব্য বিক্রয়ের কাজে ব্যবহৃত ১টি নেভী ব্লু রংয়ের ইজিবাইক জব্দ করেন। এ ঘটনায় তাদের দুজনের বিরুদ্ধে থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ত্রণ আইনে মামলা হয়েছে। যার মামলা নং-২২। একই রাতে উপ-পুলিশ পরিদর্শক সাইমুন হোসাইন সঙ্গীয় পুলিশ ফোর্স নিয়ে উপজেলার ৬নং সদর ইউনিয়নের আলতাপোল মিস্ত্রী পাড়ার প্রদীপ সেন এর ছেলে নয়ন সেন (২২) কে এক বোতল বিদেশি মদ সহ হাতেনাতে গ্রেফতার করে। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ত্রণ আইনে মামলা হয়েছে। যার মামলা নং-২১।
অপরদিকে গত ৩০ জুলাই (বৃহস্পতিবার) সকালে উপজেলার লক্ষীনাথকাটি গ্রামের রজব আলী মোড়লের ছেলে ইউছুফ মোড়লের কাঠের গোলা থেকে চিংড়া গ্রামের হাফিজুর রহমানের ছেলে ফয়সাল আহম্মেদ সাগর (২৪), একই গ্রামের কামরুজ্জামানের ছেলে ইমন হোসেন (২৪) ও মোজাম্মেল হোসেন এর ছেলে নাজমুল হোসেন (৩৪) ৭টি মেহগনি গাছের গুড়ি চুরি করে নিয়ে আলমসাধুযোগে পালিয়ে যাচ্ছিল। কিছুক্ষণ পর কাঠ ব্যবসায়ী তার কাঠের গোলায় এসে দেখে ৭টি মেহগনি গাছের গুড়ি নেই। ওইসময় বিভিন্ন এলাকায় খোজাখুজির একপর্যায়ে ৩নং মজিদপুর ইউনিয়নের প্রতাপপুর চৌরাস্তার তাদেরকে দেখতে পেয়ে ডাকচিৎকার করতে থাকে। ওইসময় এলাকাবাসী ছুটে এসে চুরির কাঠসহ তাদেরকে আটক করতে সক্ষম হলেও ওই সময় কৌশলে আরেকজন পালিয়ে যায়। বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে থানা পুলিশকে খবর দেন এলাকাবাসী। খবর পেয়ে থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে চুরির কাঠসহ তাদের দু’জনকে আটক করে থানায় নিয়ে আসেন। চুরির ঘটনা উল্লেখ করে কাঠ ব্যবসায়ী ইউছুফ মোড়ল বাদী হয়ে ফয়সাল আহম্মেদ সাগর, ইমন হোসেন ও মোজাম্মেল হোসেন কে আসামি করে থানায় একটি চুরির মামলা দায়ের করেন। যার মামলা নং-২৩।
এ ব্যাপারে কেশবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ রোকসানা খাতুন বলেন, গত দুইদিনে ইয়াবা ও বিদেশি মদসহ ৪ মাদককারবারীকে গ্রেফতার করা হয়। এ ঘটনায় তাদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ত্রণ আইনে পৃথক-পৃথক মামলা হয়েছে। মাদক শুধু একজন মানুষকে নয়, পুরো পরিবার ও সমাজকে ধ্বংস করে। মাদককারবারিরা দেশ ও জাতির শত্রু। মাদককারবারিদের কোন প্রকার ছাড় দেওয়া হবে না। এছাড়াও কাঠ চুরি করে নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার সময় দুই চোরকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে থানায় একটি চুরির মামলা হয়েছে এবং মামলার পলাতক আসামিকে গ্রেফতারের জন্যে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গ্রেফতারকৃত সকল আসামিদের বৃহস্পতিবার দুপুরে যশোর আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। সন্ত্রাস, চুরি, ছিনতাই ও মাদকমুক্ত উপজেলা গড়ার লক্ষে থানা পুলিশের ধারাবাহিক অভিযান অব্যাহত থাকবে।
